ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. আল-আমিন। তাঁর দাবি, দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই অনুষদের অকেজো লিফট সচল করার উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। অথচ ডাকসু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিফটের ব্যবস্থা করার দাবি করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করছে।
গতকাল রোববার এক ফেসবুক পোস্টে এ অভিযোগ করেন অধ্যাপক ড. আল-আমিন। তিনি লিখেছেন, ৩ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব নেওয়ার পর ৬ সেপ্টেম্বর সকালে লিফটের বিষয়ে কারিগরি কমিটির সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। এরপর ১৫ দিনের মধ্যে লিফটটি সচল করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে নতুন লিফটের ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানান তিনি।
ডিন বলেন, ৩ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাঁর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের তথ্য অনুষদের অফিশিয়াল ফেসবুক গ্রুপে প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে ডাকসুর ক্যারিয়ার উন্নয়ন সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম তাঁকে ফোন করে ডাকসু লিফটের ব্যবস্থা করতে চায় বলে জানান। তবে তিনি মাজহারুলকে জানান, লিফটের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা তিনি নিজেই করছেন।
অধ্যাপক আল-আমিনের ভাষ্য, পরে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম তাঁকে ফোন করে সাক্ষাতের সময় চান। রোববার সকাল ১১টায় সাক্ষাতের কথা থাকলেও দুপুর ১২টার কিছু আগে সাদিক কায়েম ছাড়া ডাকসুর অন্য সদস্যরা তাঁর অনুমতি ছাড়াই কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। এ সময় তিনি তাঁদের জানান, লিফটের ব্যবস্থা তিনি করছেন এবং ডাকসুর সহযোগিতার প্রয়োজন নেই।
ডিন বলেন, ‘পরবর্তীতে ফেসবুকে নানা অপপ্রচার দেখছি, তারা নাকি ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের লিফটের ব্যবস্থা করেছে। এটা তো কোনো রাজনৈতিক আদর্শ হতে পারে না। কোনো কিছুর সমাধান না করে পাবলিসিটির নামে মিথ্যাচার করা ঠিক নয়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ করছি।’
তবে ডিনের অভিযোগের সঙ্গে একমত নন ডাকসুর ক্যারিয়ার উন্নয়ন সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘অধ্যাপক আল-আমিন স্যার ডিন হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার অনেক আগেই ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের লিফটের বিষয়ে তৎকালীন ডিনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল ডাকসু। তৎকালীন ডিন জানিয়েছিলেন, তিনি ই-লাইব্রেরির কাজ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন; ডাকসু চাইলে লিফটের ব্যবস্থা করতে পারে।’
মাজহারুল ইসলাম বলেন, গত মাসে অনুষ্ঠিত ডাকসুর কার্যনির্বাহী সভায় উপাচার্যের কাছে বিজনেস ফ্যাকাল্টির লিফটের বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। সভায় কলাভবনের লিফট প্রশাসন এবং বিজনেস ফ্যাকাল্টির লিফট ডাকসু ব্যবস্থাপনা করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়। সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই ডাকসু লিফটের জন্য একজন স্পনসরও ম্যানেজ করেছে। তিনি বলেন, নতুন ডিনের সঙ্গে যোগাযোগের পর তাঁরা জানতে পারেন, অনুষদের ২০০৬ সালের পুরোনো লিফটটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে ডাকসুর পক্ষ থেকে তাঁকে জানানো হয়, যেহেতু নতুন লিফটের ব্যবস্থা করা হয়েছে, তাই পুরোনো লিফট সংস্কারের পরিবর্তে নতুন লিফট স্থাপন করা যেতে পারে। কিন্তু ডিন নতুন লিফট স্থাপন করতে হলে তাঁর সাবেক শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে সেটি করার কথা জানিয়েছেন এবং ডাকসুর ব্যবস্থাপনায় লিফট নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ দেখাননি।
মাজহারুল ইসলাম আরও বলেন, ‘আমরা ডিনকে লিফট দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছি। প্রশাসন চাইলে আমরা যেকোনো সময় লিফট এনে স্থাপনের কাজ শুরু করতে পারব। প্রশাসন যদি ডাকসুর ব্যবস্থাপনায় লিফট নিতে না চায়, সেটি তাদের সিদ্ধান্ত। আমরা বরং চাই, প্রশাসনও শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে এ ধরনের উদ্যোগে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখুক।’
এর আগে ডাকসুর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে জানানো হয়, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের একাডেমিক ভবনে শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত লিফটটি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো থাকায় শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে রয়েছেন। এই দুর্ভোগ লাঘবে ডাকসু নিজস্ব উদ্যোগে একটি নতুন লিফটের ব্যবস্থা করেছে এবং দ্রুত সেটি স্থাপনের লক্ষ্যে অনুষদের ডিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করেছে।
ডাকসুর পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, গত ১৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত পঞ্চম কার্যনির্বাহী সভায় কলাভবন ও বিজনেস ফ্যাকাল্টির লিফট সমস্যার বিষয়টি উপাচার্যের কাছে উত্থাপন করা হয়। সভায় কলাভবনের লিফট প্রশাসন সংস্কার বা স্থাপন করবে এবং বিজনেস ফ্যাকাল্টির লিফটের ব্যবস্থা ডাকসু করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়।