হোম > সারা দেশ > ঢাকা

যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন রোধে আইন প্রণয়নসহ ৯ দাবি মহিলা পরিষদের

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

জাতীয় প্রেসক্লাবে বুধবার জহুর হোসেন চৌধুরী হলে সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। ছবি: সংগৃহীত

যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন প্রতিরোধে দ্রুত আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নসহ নারী ও মেয়ে শিশুর নিরাপত্তায় ৯টি দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। সংগঠনটির অভিযোগ, নারী ও মেয়ে শিশুরা ক্রমাগত যৌন হয়রানি ও উত্ত্যক্তকরণের শিকার হলেও তা কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম।

লিখিত বক্তব্যে ফওজিয়া মোসলেম বলেন, উত্ত্যক্তকরণ, যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের ঘটনা প্রতিরোধে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ আইন জাতীয় সংসদে পাস ও বাস্তবায়ন জরুরি এবং এর কোনো বিকল্প নেই। এই আইনের মাধ্যমে যৌন হয়রানি ও উত্ত্যক্তকরণের হাত থেকে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে, যা যৌন সহিংসতামুক্ত পরিবার ও সমাজ গঠনে সহায়ক হবে।

পরিষদের সভাপতি বলেন, ২০০৯ সালের ১৪ মে হাইকোর্ট বিভাগ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে অভিযোগ কমিটি গঠন এবং যৌন হয়রানি প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে মহিলা পরিষদ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ আইনের খসড়া প্রণয়ন করে ২০১০ সালে আইন কমিশন ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়। পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, মানবাধিকার ও নারী সংগঠনের সঙ্গে যৌথভাবে আইন প্রণয়নের দাবিতে সভা, অ্যাডভোকেসি, লবিং ও জনমত গঠন করে আসছে। তবে দীর্ঘ সময়েও আইনটি প্রণীত না হওয়ায় নারী ও মেয়ে শিশুরা ক্রমাগত যৌন হয়রানি ও উত্ত্যক্তকরণের শিকার হচ্ছে এবং পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।

সংবাদ সম্মেলনে মহিলা পরিষদের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, ২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি ‘যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, ২০২৬’ -এর খসড়া উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। বর্তমানে খসড়াটি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনার পর মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ অবস্থায় কোনো ধরনের কালক্ষেপণ না করে জরুরি ভিত্তিতে আইনটি প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে মহিলা পরিষদ।

মহিলা পরিষদের উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন প্রতিরোধে দ্রুত আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১০ ধারায় বর্ণিত উত্ত্যক্তকরণ, যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের সংজ্ঞা হালনাগাদ এবং যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন প্রতিরোধ ও প্রতিকার সংক্রান্ত দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারাগুলো হালনাগাদ করা।

এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন প্রতিরোধে অভিযোগ কমিটি গঠন এবং এসব কমিটির কার্যক্রম মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। যৌন হয়রানি ও নিপীড়নকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ব্যাপক প্রচারণা চালানো, পাঠ্যসূচিতে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও নারী নির্যাতনবিরোধী বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা এবং ছেলে-মেয়েদের মধ্যে যৌন হয়রানি ও উত্ত্যক্তকরণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিরও দাবি জানানো হয়েছে।

মহিলা পরিষদ আরও বলেছে, উত্ত্যক্তকরণ ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও তৎপর হতে হবে। পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদেরও এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, লিগ্যাল এইড সেক্রেটারি রেখা সাহা ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।