শ্রমিকদের জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি)। আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে এই দাবি জানানো হয়েছে।
টিইউসির সহসভাপতি এবং শ্রমিক নেতা মাহবুব আলম বলেন, ‘এই সমাজকে পরিবর্তন করতে না পারলে, শ্রমিকেরা কখনোই তাদের অধিকার ফিরে পাবে না। শ্রমিকেরা বর্তমানে খুব কষ্টে আছে। আমার ৬০ বছর বয়সে শ্রমিকদের এই কষ্ট দেখিনি। আমরা ভালো নেই।’
মাহবুব বলেন, ‘সরকারের বয়স ৭ মাস হয়ে গেল। কিন্তু তারা শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি না দিয়ে, উল্টো চাকরিচ্যুত করেছে। ইতিমধ্যে ২ লাখ শ্রমিক চাকরি হারা হয়ে গেছে। এ দেশের সাত কোটি শ্রমিক ভালো নেই। কাজ করতে গিয়ে শ্রমিকদের মৃত্যু হচ্ছে, কিন্তু সরকারের টনক নড়ছে না।’
টিইউসির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা থেকে যাওয়ার কিছুদিন আগে আমেরিকার সঙ্গে যে চুক্তি করেছে, এটি শুধু গোলামির চুক্তি নয়। এই গোলামির চুক্তি বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমেরিকা যাদের বন্ধু হয়, তাদের কোনো শত্রুর দরকার হয় না।’
টিইউসির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মালেক বলেন, ‘বাংলাদেশে শিল্প কারখানায় নৈরাজ্যকর অবস্থা চলছে। এ অবস্থার মধ্যে দিয়ে জিনিসপত্রের দাম এমনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে যে, সাধারণ মানুষসহ শ্রমিকদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে।’
মালেক বলেন, ‘কয়েক দিন আগে সরকারি কর্মচারীদের মজুরি বেড়েছে। কিন্তু, গার্মেন্টসের মতো এত গুরুত্বপূর্ণ খাতে শ্রমিক মজুরি মাত্র সাড়ে ১২ হাজার টাকা। ট্যানারি শিল্পের শ্রমিকদের মজুরি ১৮ হাজার টাকা। যাদের উৎপাদনের মধ্য দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়, তাদের বেতন এত কম হতে পারে না।’
শ্রমিক সমাবেশ থেকে ৬ দফা দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলো হলো: শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা, সর্বজনীন রেশনিং ব্যবস্থা চালুসহ সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ৪৫ টি রাষ্ট্রীয় কারখানায় বেসরকারি বিনিয়োগে না চালিয়ে রাষ্ট্রীয় অংশগ্রহণে চালাতে হবে, শ্রমিকদের রেশন, আবাসন, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
এ ছাড়াও চট্টগ্রাম বন্দর ইজারার সিদ্ধান্ত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত অসম চুক্তি বাতিল এবং শ্রমিক-কর্মচারীদের অধিকার, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।