রাষ্ট্রায়ত্ত ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের (ইডিসিএল) নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগের প্রায় তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে। প্রজ্ঞাপন জারির পর এত দিন পার হলেও কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি এখনো পদে যোগ দিতে পারেননি। অন্তর্বর্তীকালীন শূন্যতা পূরণে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনে কোম্পানি সচিবকে এমডির চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এ নিয়েও দেখা দিয়েছে বিতর্ক।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২১ মে চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে আ কা মো. আশরাফুজ্জামানকে এক বছরের জন্য ইডিসিএলের এমডি পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগ যোগদানের তারিখ থেকে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। তবে নতুন এমডি এখনো যোগদান করতে পারেননি।
৮ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের কাছে নতুন এমডির সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিপত্রটি পাঠিয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত চিঠিতে এ বিষয়ে ‘পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।
দাপ্তরিক নিয়ম অনুযায়ী, এটি অবিলম্বে নতুন এমডির যোগদান নিশ্চিত করার জন্য চূড়ান্ত তাগিদ। এমডির নিয়োগ ও বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ও ইডিসিএলের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় নিয়োগ দেয়। আমরা তখন পরিচালনা পর্ষদের (বোর্ড) সভায় বসে এটিকে অনুমোদন করব। বোর্ড মিটিংয়ে তাঁর শর্তাবলি ঠিক করে দেওয়া হলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এটার সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করবে।’
এখানে কোনো জটিলতা নেই মন্তব্য করে সচিব বলেন, ‘নিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতা থাকে, যেমন পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রতিবেদন এবং অন্য কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। সেগুলো জমা দিলে বোর্ড অনুমোদন দিয়ে দেয় এবং এর মাধ্যমেই নিয়োগটি চূড়ান্ত হয়। নতুন এমডি আ কা মো. আশরাফুজ্জামান এখনো চেয়ারে বসেননি বা যোগদান করেননি। পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রতিবেদনসহ প্রয়োজনীয় কাগজগুলো এলে আমরা দু-এক দিনের মধ্যে বোর্ড সভার মাধ্যমে এটি চূড়ান্ত করে ফেলব। পর্ষদের সিদ্ধান্তের পর উনি যোগদান করবেন।’
এদিকে ৪ জুন অনুষ্ঠিত ইডিসিএলের ১৯০তম পরিচালনা পর্ষদ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোম্পানির ব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) মোহাম্মদ আহছান উল্লাহ স্বাক্ষরিত এক আদেশে কোম্পানি সচিব মো. মোজাহিদুল ইসলামকে এমডির চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরবর্তী পরিচালনা পর্ষদ সভার কোনো নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত কোম্পানি সচিবই এমডির দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজ সম্পাদন করবেন বলে ওই আদেশে বলা হয়।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব এ বিষয়ে বলেন, ৪ জুনের অফিস আদেশের পর থেকে মোজাহিদুল ইসলাম শুধু দৈনন্দিন দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি নীতিনির্ধারণী কিংবা আর্থিক কোনো বড় সিদ্ধান্ত নেবেন না।
কোম্পানি আইন ১৯৯৪ অনুযায়ী গঠিত ইডিসিএলের নিজস্ব সংঘবিধির (আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশন) ৫৪ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ করবে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এটি করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। নতুন এমডি চেয়ারে বসার আগপর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে প্রতিষ্ঠান সচল রাখতে পরিচালনা পর্ষদ সাময়িক ব্যবস্থা নিতে পারলেও ৪ জুনের আদেশে সরকারের আগের প্রজ্ঞাপনের কোনো উল্লেখ করা হয়নি। ‘পরবর্তী পরিচালনা পর্ষদ সভার নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত’ কোম্পানি সচিব এমডির দায়িত্ব পালন করবেন বলেও আদেশে উল্লেখ রয়েছে। আদেশটিতে স্বাক্ষর করেছেন প্রশাসন বিভাগের একজন ব্যবস্থাপক, যিনি ‘পক্ষে: ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব)’ হিসেবে সই করেছেন। অথচ ওই আদেশের মাধ্যমেই কোম্পানি সচিব মোজাহিদুল ইসলাম চলতি দায়িত্ব পাচ্ছেন।
ব্যবস্থাপনা পরিচালকের চলতি দায়িত্বে থাকা ইডিসিএলের কোম্পানি সচিব মো. মোজাহিদুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘৪ জুনের বোর্ড মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমি শুধু দৈনন্দিন কার্যক্রমগুলো দেখছি।’
এদিকে এমডি পদে যোগদান করতে না পারলেও গতকাল বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ইডিসিএলের সরকারি ওয়েবসাইটে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে আশরাফুজ্জামানের নাম ও ছবি দেখা গেছে। ওয়েবসাইটের পরিচালনা পর্ষদের তালিকায় সদস্যসচিব হিসেবেও তাঁর নাম ও ছবি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
পদটিতে নিয়োগ ও যোগদানের বিষয়ে জানতে আ কা মো. আশরাফুজ্জামানের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে কল দিয়ে এবং খুদে বার্তা পাঠিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি শতভাগ রাষ্ট্রায়ত্ত ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। ১৯৬২ সালে এটি সরকারি ফার্মাসিউটিক্যালস ল্যাবরেটরি হিসেবে যাত্রা শুরু করে। পরে বিভিন্ন ধাপে বর্তমান ইডিসিএল হিসেবে গড়ে ওঠে।