বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে গুলশান সোসাইটির আয়োজনে গুলশান-২ এলাকার লেকপার্কে মঙ্গলবার বিকেলে শুরু হয়েছে বর্ণাঢ্য বৈশাখী মেলা। পরম্পরা সংগীত একাডেমির পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। সন্ধায় দেশবরেণ্য শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা পরিবেশন করেন রবীন্দ্র সংগীত।
বর্ণাঢ্য আয়োজনের অন্যতম আয়োজন ছিল দেশবরেণ্য চিত্র শিল্পীদের চিত্র প্রদর্শনী।
বৈশাখী মেলার আরেক আকর্ষণ ছিল কারুশিল্প প্রদর্শনী থেকে শুরু করে নানান পোশাক, বাচ্চাদের খেলনার সমাহার । ভোজন বিলাসী পর্বে ছিল বাহারি সব খানাপিনা।
মেলার মূল আয়োজক গুলশান সোসাইটির সভাপতি ব্যারিস্টার ওমর সাদাতের তত্ত্বাবধানে এই উৎসব পরিদর্শন করেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনসহ বিভিন্ন স্তর ও শ্রেণি-পেশার মানুষ। ধর্ম, বর্ণ, বয়স নির্বিশেষে নারী, পুরুষ, শিশু, বৃদ্ধের সম্মিলিত উপস্থিতিতে বৈশাখী মেলা হয়ে ওঠে মেলবন্ধনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
মেলা পরিদর্শনে এসে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন এই আয়োজন, বাঙালি সংস্কৃতি সুর-সংগীতের ভূয়সী প্রসংশা করেন।
তিনি বলেন, তিনি সম্প্রতি ঢাকায় এসেছেন এবং এসেই এ ধরণের একটি আয়োজনে অংশ নিতে পেরে আনন্দিত অনুভব করছেন।
বাংলাদেশ সংস্কৃতি এবং সভ্যতায় একটা উন্নত জাতিসত্তা বলে তার মনে হয়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা চাই সবগুলো সোসাইটি থেকে এ ধরনের আয়োজন করা হোক। আমরা এসব আয়োজনে সহযোগিতা করছি। আমরা চাই, নগরবাসী উৎসবের মধ্যে থাকুন।’
আয়োজন নিয়ে গুলশান সোসাইটির সভাপতি ব্যারিস্টার ওমর সাদাত বলেন, নগরকে বাঁচাতে হলে সাংস্কৃতিক আয়োজন করতে হবে। এসব আয়োজনে মানুষকে সম্পৃক্ত করতে পারলে আমরা একটি সুন্দর শহর করতে পারব। সে জন্যই আমাদের এ আয়োজন। একটি শহর শুধু কংক্রিট বা ভবন না, শহরকে বাঁচাতে হলে মানুষকে নানা আয়োজনে সম্পৃক্ত করতে হবে।