রাজধানীর পদ্মা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, শিশুটি হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং হাসপাতালের অবকাঠামো ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পর্যালোচনায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
গতকাল রোববার রাত ৯টার দিকে শিশুটির মৃত্যু হয়। ঘটনার পর চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে ফেসবুক লাইভ করেন শিশুটির এক স্বজন। পরে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে।
শিশুটির স্বজনদের ভাষ্য, ডায়াবেটিসজনিত সমস্যায় ১৩ দিন ধরে শিশুটিকে পদ্মা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। মৃত্যুর দিন বিকেল পর্যন্ত শিশুটি স্বাভাবিক ছিল। সন্ধ্যার দিকে খাবার খাওয়ানোর সময় ধীরে ধীরে তার শরীর নীল হয়ে আসে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শিশুটিকে লাইফ সাপোর্টে নেয়। স্বজনেরা শিশুটিকে দেখতে চাইলে তাৎক্ষণিকভাবে দেখতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা। পরে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
হাসপাতালটির পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের জানানো হয়, শিশুটির হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়। একপর্যায়ে তার শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। পরদিনই শিশুটিকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলেও জানায় কর্তৃপক্ষ।
শিশুটির মৃত্যুর পর স্বজন ও হাসপাতালের কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ও বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, উত্তেজিত স্বজনেরা ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী নষ্ট করেছেন এবং কয়েকজন নার্সকে মারধর করেছেন। স্বজনেরা এ অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেন, হাসপাতালের কর্মীরাই প্রথমে তাঁদের ওপর চড়াও হন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান সোমবার দুপুরে আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা সেখানে গিয়ে দেখে এসেছি। তবে শিশুটির কোনো স্বজনকে পাইনি। এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগও দেয়নি। আমরা স্বপ্রণোদিত হয়ে সেখানে গিয়েছি। দুটি তদন্ত কমিটি করা হবে। একটি কমিটি করবে মেডিকেল নেগলিজেন্সের অভিযোগের বিষয়ে এবং অন্যটি হাসপাতালের অবকাঠামো ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে। মেডিকেল নেগলিজেন্সের তদন্ত কমিটিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা থাকবেন। আজ অথবা আগামীকালের মধ্যে দুটি কমিটি করা হবে।’