দ্বিতীয় স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের কক্ষে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তে নেমেছে পুলিশ। ঘটনার সময় বাসায় কে কে ছিলেন, তদন্তের স্বার্থে তা জানায়নি পুলিশ। তবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এমপি গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রীকে থানায় নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।
আজ রোববার রাত ১০টার দিকে সংসদ ভবনের সামনে ন্যাম ভবনের গেটের সামনে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ ইবনে মিজান সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।
পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইবনে মিজান জানান, জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ন্যাম ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলায় লিফটের পাশে ২০৩ নম্বর কক্ষে একটি ঝুলন্ত লাশ থাকার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় শেরেবাংলা নগর থানা-পুলিশ। পরে ঘটনাস্থলে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট, পিবিআই ও ডিবির সদস্যরাও উপস্থিত হন।
এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা এসে দেখতে পাই, ২০৩ নম্বর কক্ষটি সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি নজরুল ইসলাম মহোদয়ের। সেখানে এসে পরে আইনগত আনুষঙ্গিক কাজগুলো সিআইডির ক্রাইম সিন টিম করেছে। লাশের সুরতহালের জন্য শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজে নেওয়া হয়েছে।’
ডিসি মিজান বলেন, ‘পরে ভিকটিমের পরিচয় জানতে পারি, তিনি সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি মহোদয়ের দ্বিতীয় স্ত্রী।’
পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আমরা এখন এমপি মহোদয় ও তাঁর প্রথম স্ত্রীকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়েছি। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
লাশের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর বিষয়ে কী ধারণা করা হচ্ছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘ঝুলন্ত অবস্থায় আমাদের সিআইডির ক্রাইম সিন টিম সেখানে যথাযথভাবে কাজ করেছে। কাজ করার পরে তারা যখন আমাদের দায়িত্ব দিয়েছে, আমরা তখন সুরতহাল করেছি। সুরতহাল করার পরে লাশ পোস্টমর্টেমে পাঠিয়ে দিয়েছি।’
ঘটনার সময় বাসায় কে কে ছিলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘সেটি আমরা আপাতত তদন্তের স্বার্থে বলছি না। সিআইডির ক্রাইম সিন (টিম) আমাদের কাছে সেটি হস্তান্তর করবে এবং আমরা পরে আপনাদের জানাব।’
ঘটনার সময় এমপি গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী বাসায় ছিলেন কি না, জানতে চাইলে পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘না, এটাও তদন্তের বিষয়। আমরা এটা তদন্ত করে জানাব।’
কারও বিরুদ্ধে পরবর্তী সময়ে হেফাজতে নেওয়ার মতো কোনো ব্যবস্থা হবে কি না—জানতে চাইলে ডিসি মিজান বলেন, এটা পরে জানানো হবে।
এর আগে রাত ৯টা ৪০ মিনিটে সিআইডির ক্রাইম সিনের একটি প্রতিনিধিদলকে ভবন থেকে বের হতে দেখা গেছে। অ্যাম্বুলেন্সযোগে মরদেহটি রাত ৯টা ৫২ মিনিটের দিকে বের হয়। অ্যাম্বুলেন্সের পেছনের একটি গাড়িতে ছিলেন এমপি গাজী নজরুল ইসলাম।
প্রসঙ্গত, আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পুলিশ খবর পেয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে এমপি গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রীর লাশটি উদ্ধার করা হয়।
শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমাউল হক আজকের পত্রিকাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করে তখন জানান, খবর পেয়ে তাঁরা লাশ উদ্ধারের জন্য ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেছেন। লাশটি গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় রয়েছে।