অপরাধ প্রতিরোধে ফ্ল্যাট বা প্লট ভাড়া দেওয়ার আগে ভাড়াটিয়ার তথ্য যাচাই এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নির্ধারিত ভাড়াটিয়া ফর্ম পূরণের পরামর্শ দিয়েছে র্যাব-২। একই সঙ্গে খালি প্লটে অপরাধীদের আশ্রয় না দেওয়া এবং এলাকায় কোনো অপরাধী বা মাদক কারবারির তথ্য পেলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
আজ শনিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকার বিভিন্ন হাউসিং সোসাইটির মালিক ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে ‘টাউন হল মিটিং’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব পরামর্শ দেওয়া হয়।
র্যাব-২ অধিনায়কের কার্যালয়ে আয়োজিত সভায় মাদক, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন র্যাব-২ সিপিএসসি কোম্পানি কমান্ডার হাসান মুহাম্মদ মুহতারিম। এতে মোহাম্মদপুর ও আদাবর থানাধীন বিভিন্ন হাউসিং সোসাইটির মালিকপক্ষ ও প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভায় র্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, ফ্ল্যাট বা প্লট ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে মালিকদের আরও সতর্ক হতে হবে। ভাড়াটিয়ার পরিচয় যাচাইয়ের পাশাপাশি ডিএমপির ভাড়াটিয়া ফর্ম যথাযথভাবে পূরণ করতে হবে। খালি প্লট ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রেও মালিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
র্যাবের এক কর্মকর্তা বলেন, অপরাধী যে-ই হোক, কোনো অপরাধের ক্ষেত্রেই ছাড় দেওয়া হবে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করবে। তিনি বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এ জন্য স্থানীয় বাসিন্দা, হাউসিং সোসাইটির মালিকপক্ষ ও সচেতন নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
র্যাব কর্মকর্তা বলেন, এলাকায় কোনো সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি বা অপরাধীর বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে হবে। অপরাধ দমনে জনগণের সহযোগিতা ও সঠিক তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের পাশে থাকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রশাসন ও জনগণ একসঙ্গে কাজ করলে মোহাম্মদপুর ও আদাবরকে আরও নিরাপদ এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
সভায় বক্তারা বলেন, আগের তুলনায় মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। এ অগ্রগতি ধরে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা ও হাউসিং সোসাইটির মালিকদের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
সভা শেষে প্রশাসন, হাউসিং সোসাইটির মালিকপক্ষ, স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিকদের সমন্বিতভাবে অপরাধ প্রতিরোধে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।