হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের জামিন নামঞ্জুর করা হয়েছে। আজ রোববার ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. সাদেকীন হাবিব বাপ্পি জামিন নামঞ্জুর করেন।
খায়রুল হকের আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহীন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে যাত্রাবাড়ী এলাকায় খোবাইব নামের ২০ বছরের এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় গত ২৩ মে গ্রেপ্তার দেখানো হয় খায়রুল হককে। গ্রেপ্তার দেখানোর পর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁর জামিন নামঞ্জুর করেন। এরপর মহানগর দায়রা আদালতে জামিনের আবেদন করেন তাঁর আইনজীবী। আজ শুনানি শেষে জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করা হয়।
এ মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন খোবাইব (২০)। যাত্রাবাড়ী ওভারব্রিজের নিচে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে খোবাইব ঘটনাস্থলে মারা যান।
এ ঘটনায় মৃতের ভাই জোবায়ের আহম্মেদ বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর মামলা করেন। এতে শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, ওবায়দুল কাদেরসহ ৮০ জনকে আসামি করা হয়।
উল্লেখ্য, খায়রুল হককে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার না দেখানো এবং হয়রানি না করার জন্য হাইকোর্ট থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়। গত ১৭ মে বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে এ বিষয়ে রুলও জারি করেন আদালত।
বিচারপতি খায়রুল হককে গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলের কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে।
পর্যায়ক্রমে সাতটি মামলায় খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। সবগুলো মামলায় তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। আপিল বিভাগ সাত মামলায় জামিন বহাল রাখার পর কারাগার থেকে মুক্তির অপেক্ষায় থাকার সময় নতুন করে আরও একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় খায়রুল হককে।