ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জসীম উদ্দিন হল মাঠে বিশ্বকাপ ফুটবল ফাইনাল খেলা চলাকালে হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী এক নারী শিক্ষার্থীকে ধাক্কা দেওয়া, মৌখিক হয়রানি ও তাঁর সঙ্গে থাকা বন্ধুদের মারধরের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আজ মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিন শিক্ষার্থী।
অভিযোগকারী শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী জান্নাতি আদনীম অরিল আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বিশ্বকাপ ফুটবল ফাইনাল খেলা দেখতে আমি ও আমার তিন বন্ধু মাঠে বসেছিলাম। এর মধ্যে দুজন নারী ও একজন পুরুষ শিক্ষার্থী ছিলাম। দুই নারী শিক্ষার্থীর একজন উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী পুষ্পিতা চৌধুরী, যিনি হুইলচেয়ার ব্যবহার করেন।’
অরিল বলেন, ‘হাফটাইমের পর জসীম উদ্দিন হলের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী আসাদুল্লাহ আল গালিব তাঁদের বসার স্থানের ওপর দিয়ে মাঠের মাঝে থাকার চেয়ারগুলোর দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পুষ্পিতা চৌধুরী তাঁকে অন্য পাশ দিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ শুরু করেন। এরপর পুষ্পিতার হুইলচেয়ারেও ধাক্কা দিয়ে সামনে এগিয়ে যান বলে উচ্চবাচ্য করেন।’
এ শিক্ষার্থী আরও বলেন, তাঁর সঙ্গে থাকা এক পুরুষ বন্ধু এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে তাঁকে মারধরের হুমকি দেওয়া হয়। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন জোরপূর্বক তাদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আবারও হুইলচেয়ারটি ধাক্কার মুখে পড়ে। চেয়ারে বসার পরও খেলা শেষে দেখে নেওয়া ও মারধরের হুমকি দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।
অভিযোগকারী শিক্ষার্থী অরিল জানান, ঘটনাটির অনেক প্রত্যক্ষদর্শী রয়েছেন। এ ছাড়া ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও হুমকিমূলক মন্তব্য করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত স্ক্রিনশটও তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে আসাদুল্লাহ আল গালিব আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ঘটনাটিকে ভুলভাবে “নারী হেনস্তা” হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। মূলত আমার সঙ্গে কয়েকজন পুরুষ শিক্ষার্থীর কথা-কাটাকাটি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নারী শিক্ষার্থীকে আমি কোনো গালিগালাজ করিনি বা কোনো আপত্তিকর মন্তব্যও করিনি। হাফটাইমে মাঠ থেকে বের হয়ে বিরতির পর ভেতরে ঢোকার সময় তারা আমাদের বাধা দেন। মাঠের ভেতরে আমাদের জন্য চেয়ার রাখা ছিল এবং আমি আয়োজকদের সঙ্গেও যুক্ত ছিলাম। তবুও আমাদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছিল না।’
গালিব আরও বলেন, ‘হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে আমি কোনো অসদাচরণ করিনি। বরং যাওয়ার সময় তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তাঁর কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না। তিনি বলেছিলেন, সামনে কেউ বসে না থাকলে তিনি খেলা দেখতে পারবেন। পরে তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন আমাদের সঙ্গে রূঢ় আচরণ করেন। এখন ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।’
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ইসরাফিল রতন বলেন, ‘আমি অভিযোগটি পাওয়ার পরপরই তা মার্ক করে সংশ্লিষ্ট হল প্রশাসনকে তাৎক্ষণিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি। কোন ক্ষমতার জোরে তাঁরা এমন অমানবিক ঘটনা ঘটাল, তা খুঁজে বের করতে বলেছি।’