হোম > সারা দেশ > ঢাকা

চালকলে চুরির অভিযোগে ডেকে নিয়ে মারধর, ৭ দিন পর যুবকের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার

নিহতের পিতা বদন মণ্ডল (গামছা পরিহিত), পাশে এলাকার লোকজন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

ঢাকার ধামরাইয়ে চালকলের মোটরের যন্ত্রাংশ চুরির অভিযোগে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে জখম করা শঙ্কর মণ্ডল নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মারধরের সাত দিন পর আজ শনিবার সকালে নিজ বাড়িতে তাঁর মৃত্যু হয়।

পরিবারের অভিযোগ, বেধড়ক পিটুনিতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লেও অর্থাভাবে তাঁর উন্নত চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি।

মারা যাওয়া শঙ্কর মণ্ডল (৩৫) ধামরাই পৌরসভার পশ্চিম কায়েতপাড়া এলাকার বদন চন্দ্র মণ্ডলের ছেলে এবং স্থানীয় একটি মুরগির খামারের কর্মী ছিলেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৮ আগস্ট ধামরাই পৌরসভার আইঙ্গন এলাকার হাজি ওয়াজেদ আলীর চালকলে মোটরের একটি যন্ত্রাংশ চুরি হয়। চুরির ঘটনায় শঙ্করকে সন্দেহ করে ওই দিনই ওয়াজেদ আলীর লোকজন তাঁকে বাড়ি থেকে মিলে ডেকে নিয়ে যান। সে সময় শঙ্করের সঙ্গে তাঁর বাবা বদন চন্দ্র মণ্ডল ও স্থানীয় প্রতিবেশী জিয়াউর রহমান সেখানে যান।

শঙ্করের বাবার অভিযোগ, চালকলের ভেতরে শঙ্করকে রেখে তাঁদের বের করে দেওয়া হয়। এরপর ভেতরে তাঁকে মারধর করা হয়। কিন্তু চুরির কথা স্বীকার না করায় পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় শঙ্করকে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে অর্থের সংস্থান না হওয়ায় তাঁকে বাড়ি ফিরিয়ে আনা হয় এবং উপযুক্ত চিকিৎসার অভাবে আজ সকালে নিজ বাড়িতেই তিনি মারা যান।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা জিয়াউর রহমান বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে শঙ্করকে ভেতরে নিয়ে মারধর করা হয়। বের করার পর তিনি ঠিকমতো হাঁটতেও পারছিলেন না। পরিবারটি অত্যন্ত দরিদ্র হওয়ায় উন্নত চিকিৎসা না পেয়ে ছেলেটি মারা গেল।’

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ওয়াজেদ আলীসহ সংশ্লিষ্টরা পলাতক থাকায় তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা খান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করেছে। ৮ আগস্ট চুরির অপবাদে তাঁকে মারধর করা হয়েছিল বলে পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।