বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সেই তরুণীকে (১৯) আবার তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনজুরুল ইসলাম রিমান্ডে নেওয়ার এই নির্দেশ দেন।
চার দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তরুণীকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। তাঁকে আবার সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নৌ পুলিশের ঢাকা অঞ্চলের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন। শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত রোববার (১ নভেম্বর) তাঁকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। এর আগে গত ৩১ অক্টোবর রাতে ওই তরুণীকে আটক করে পুলিশ।
পুনরায় রিমান্ড চেয়ে আবেদনে বলা হয়েছে, নিখোঁজ হওয়ার আগে তাহসিফের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায় তরুণীকে। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন, ঘটনার আগে অর্থাৎ ২৭ অক্টোবর রাতের বেলা তাহসিফের সঙ্গে তিনি উত্তরার একটি রেস্টুরেন্টে গিয়েছিলেন। পরে উত্তরার বিভিন্ন স্থানে বাইকে করে ঘোরাঘুরি করেছেন। তিনি জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ আরও তথ্য দিয়েছেন। তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তাঁর দেওয়া তথ্য এবং পারিপার্শ্বিক অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে তিনি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন বলে প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। এ জন্য তাঁকে আরও ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড আবেদনে সাতটি কারণ উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ঘটনার দিন উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের রুআপ কমপ্লেক্সে সিপি ফাইভ স্টার নামের ফাস্ট ফুডের দোকানে তাহসিফ ও তরুণী স্ন্যাকস খেয়েছিলেন। এ সময় তাঁদের মধ্যে আবেগপ্রবণ কথাবার্তা বা বাগ্বিতণ্ডা হয়েছিল কি না, তা জানা প্রয়োজন। এ ছাড়া উত্তরার নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্তোরাঁয় তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়েছিল কি না এবং ঘটনার দিন বা তার আগে তাঁদের সম্পর্কে কোনো টানাপোড়েন চলছিল কি না, তা যাচাই করতে হবে।
মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন, অজ্ঞাতনামা অপর আসামিদের গ্রেপ্তার, আলামত উদ্ধার এবং তরুণী ও আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের বক্তব্য মিলিয়ে দেখার জন্যও তাঁকে পুনরায় রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন তাহসিফ। তাঁর জুনিয়র বন্ধু দীপের ডাকে সাড়া দিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তিনি। পরে ২৮ অক্টোবর বিকেলে তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় গত ৩১ অক্টোবর সকালে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে রাজধানীর উত্তরখান থানায় হত্যা মামলা করেন তাঁর বাবা কে এম এনায়েতুল করিম।
মামলায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করা হলেও তাহসিফকে তাঁর জুনিয়র বন্ধু দীপ বাসা থেকে ডেকে নিয়ে গেছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। এ মামলায় দীপকে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়। গত মঙ্গলবার দীপকে দ্বিতীয় দফায় তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।