ঢাকার মহাখালী বাস টার্মিনালের মূল সড়কে হামে শিশুমৃত্যুর প্রতিবাদ ও প্রতিরোধযোগ্য এ রোগে মৃত্যু ঠেকাতে ব্যর্থতার অভিযোগে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমের শাস্তির দাবিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঝটিকা মিছিল করে। এ সময় কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। এই ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে।
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, মহাখালী বাস টার্মিনালের মূল সড়কে এ মিছিল বের করা হয়। মিছিল থেকে কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণও ঘটানো হয়। তিনি বলেন, এ সময় মিজানুর রহমান হাওলাদার (৪০), শামীম আরা বেবি (৫০) ও শামীম হোসেনকে আটক করা হয়।
কারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
গুলশান ট্রাফিক বিভাগের সদস্যরা জানান, ‘প্রগতিশীল নাগরিক সমাজ’—ব্যানারে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল সেখানে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করে। তাদের হাতে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের প্ল্যাকার্ডও ছিল।
গুলশান ট্রাফিক বিভাগের সদস্যদের ভাষ্য, দলটি ‘প্রতিরোধযোগ্য হাম রোগে নিষ্পাপ ও সম্ভাবনাময় শিশুদের মৃত্যুর জন্য দায়ী ইউনূস-নুরজাহানের বিচার এবং মৃত শিশুদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ’ দাবিতে মানববন্ধন করার উদ্দেশ্যে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করছিল।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা কয়েকটি হাতবোমা বা ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটান। মিছিলকারীরা ‘জয় বাংলা’ এবং ‘শেখ হাসিনার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’ স্লোগান দেন। পুলিশ আরও জানায়, মিছিলকারীদের বহন করা ব্যানার ও ফেস্টুনে শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবিও দেখা যায়। মিছিল শেষে চলে যাওয়ার সময় ককটেলগুলোর বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
ডিএমপির তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল জোনের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) আব্দুল্লাহ আল ইমরান বলেন, ‘আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। সুনির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মসূচির তথ্য আগে ছিল না। ব্যানারেও ভিন্ন ধরনের বক্তব্য ছিল। সেখানে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে নিয়ে হামের টিকাসংক্রান্ত বক্তব্য লেখা ছিল। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’