চুয়াডাঙ্গার ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে ট্রাস্টি বোর্ডের মালিকানা ও পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে বিশ্ববিদ্যালয় দখল, ভাঙচুর ও বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি বোর্ড। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়টি দ্রুত খুলে দিয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তাঁরা।
আজ বুধবার সকালে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আলিম উদ্দীন লস্কর লিখিত বক্তব্যে এ অভিযোগ করেন।
আলিম উদ্দীন লস্কর লিখিত বক্তব্যে দাবি করেন, ২০১২ সালে ‘দি ফার্স্ট ক্যাপিটাল এডুকেশন, হেলথ অ্যান্ড এগ্রিকালচার ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট’-এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলেও ২০১৫ সালে গঠিত পৃথক একটি ট্রাস্ট অবৈধভাবে প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা দাবি করে। এর পর থেকেই বিরোধের সূত্রপাত হয়।
তাঁর অভিযোগ, গত ২১ জুলাই প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি বোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের পর ২৩ জুলাই বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে একটি পক্ষ চেয়ারম্যানের কক্ষ দখল, ভাঙচুর এবং বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে। ট্রাস্টি বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, দ্বিতীয় ট্রাস্ট গঠনে জালিয়াতি, মিথ্যা তথ্য প্রদান, আর্থিক অনিয়ম এবং ইউজিসির নীতিমালা লঙ্ঘন করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসিতে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ ও প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়া হলেও এখনো কার্যকর সমাধান হয়নি বলে দাবি করেন প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান।
আলিম উদ্দীন লস্কর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম বর্তমানে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার পাশাপাশি বিরোধের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইউজিসি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।