বিশৃঙ্খলা এড়াতে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আজ বৃহস্পতিবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে প্রবেশ করছেন শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসের চারপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রধান ফটকে পুলিশ ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা অবস্থান করছেন। পরিচয়পত্র ছাড়া কাউকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
এর আগে বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে একই স্থান ও সময়ে তিনটি সংগঠনের সমাবেশের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করে প্রশাসন।
নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, এজিএস মাসুদ রানা, ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সেক্রেটারি মো. ইব্রাহীম খলীলসহ একাধিক নেতা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। অন্যদিকে শহীদ মিনারে অবস্থান নেন শাখা ছাত্রদলের কয়েকশ নেতা কর্মী। তাদের অবস্থানে বাধা দেয় প্রক্টরিয়াল বডি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব প্রক্টরিয়াল বডির। তাই আজ এখানে কেউ কোনো সভা-সমাবেশ করতে পারবে না। যাদের ক্লাস আছে, সবাইকে ক্লাসে যেতে হবে।’
শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি যেন না হয়, সে কারণে আমরা অবস্থান করছি। যেন কোনো অরাজক পরিবেশের সৃষ্টি না হয় এবং শিক্ষার পরিবেশ যেন নষ্ট না হয়, সে জন্য আমরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছি।’
এদিকে জবি শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. বিলাল হোসাইন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি করার যে অধিকার, সেটা শুধু ছাত্রদের জন্য, নিয়মিত ছাত্রদের জন্য হওয়া দরকার। আপনাদের শিক্ষাজীবন শেষ হয়ে গেছে, আপনারা অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠন করেন।’
আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। উপাচার্য অছাত্রদের ক্যাম্পাসে আসা-যাওয়া ও নিয়মিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রাজনীতি বন্ধে প্রশাসনকে কঠোর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে একটি অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর করেছে জকসু। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় উপাচার্যের ভবনের সামনে এ হস্তান্তর অনুষ্ঠান হয়।
জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচনের আগে আমাদের প্রতিশ্রুতি ছিল, আমরা নির্বাচিত হলে শিক্ষার্থীদের জন্য একটা অ্যাম্বুলেন্স ম্যানেজ করে দেব। আজ সেটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করছি।’
জগন্নাথে সংঘর্ষের ঘটনার বিচার ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দেয় জকসু। একই সঙ্গে হামলায় জড়িত বহিরাগত, অছাত্র ও শিক্ষার্থীদের সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়াসহ ৯ দফা দাবি জানানো হয়।
গত মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সংঘর্ষে জকসু, ইসলামী ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি ও ইনকিলাব মঞ্চের নেতা কর্মীসহ প্রায় ৭০ জন শিক্ষার্থী আহত হন। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।