যৌতুকের মামলায় কারাগারে থাকা আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও টিকটকার আবদুল্লাহ আল মামুন ওরফে প্রিন্স মামুনকে এবার আত্মহত্যার চেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আজ বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম গ্রেপ্তার দেখানোর এই নির্দেশ দেন।
প্রিন্স মামুনের আইনজীবী পলাশ চৌধুরী রায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত সোমবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার এসআই মো. ইয়াউর রহমান আদালতে প্রিন্স মামুনকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। ওই আবেদনের ওপর আজ শুনানির দিন ধার্য ছিল। প্রিন্স মামুনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। পরে আবার তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এদিকে প্রিন্স মামুনের আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন এই মামলায়। আদালত জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে রাজধানীর ভাটারার বাসায় প্রিন্স মামুন নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে তাঁর স্ত্রী আতিকিয়া ফাইজাহ মোহনার ব্যবহৃত একটি শাড়ি সিলিং ফ্যানের সঙ্গে বেঁধে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি ওই ঘটনার জন্য স্ত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের দায়ী করে বক্তব্য দেন।
লাইভটি দেখে মোহনা, তাঁর মা, স্বজন ও মামুনের বাবা-মা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় তাঁকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। ঘটনার পর আতিকিয়া ফাইজাহ মোহনা ভাটারা থানায় আত্মহত্যার চেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন।
আত্মহত্যার চেষ্টা একটি ফৌজদারি অপরাধ। এই অপরাধ প্রমাণিত হলে এক বছর পর্যন্ত শাস্তির বিধান রয়েছে দণ্ডবিধির ৩০৯ ধারায়।
এর আগে একই দিন সকালে এক কোটি টাকা যৌতুক দাবি এবং যৌতুকের জন্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে প্রিন্স মামুনের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা করেন মোহনা। ওই মামলায় গ্রেপ্তারের পর তাঁকে গত শুক্রবার কারাগারে পাঠানো হয়।