রাজধানীর গুলশান সেন্ট্রাল পার্কের ব্যবস্থাপনার জন্য রাজউক ও গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ সোমবার হাইকোর্ট বিভাগের দ্বৈত বেঞ্চের বিচারপতি ইকবাল কবির ও বিচারপতি এস এম সাইফুল ইসলাম এ রুল জারি করেন। চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রিট আবেদনে বলা হয়, রাজউক ওই সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে গুলশান ইয়ুথ ক্লাবকে পার্ক ও মাঠ ব্যবহারের জন্য নাগরিকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের সুযোগ দিয়েছে, যা মাঠ, পার্ক ও জলাধার সংরক্ষণ-সংক্রান্ত আইনের পরিপন্থী। আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, গুলশান ইয়ুথ ক্লাব মাঠ, পার্ক ও জলাধার-সংক্রান্ত আইন এবং আপিল বিভাগের নির্দেশনা লঙ্ঘন করে সেখানে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করছে।
শুনানি শেষে রাজউক ও গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের চুক্তির মাধ্যমে মাঠ ব্যবহারের জন্য অর্থ আদায় এবং বেআইনি স্থাপনা নির্মাণের কার্যক্রম কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, একই সঙ্গে মাস্টারপ্ল্যান লঙ্ঘন করে নির্মিত বেআইনি স্থাপনা চিহ্নিত করতে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত।
রিট আবেদনে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, রাজউক, বাংলাদেশ পুলিশ এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারকে বিবাদী করা হয়েছে। নগর-পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান, পরিবেশবিদ ফিরোজ আহমেদ, আমিরুল রাজিব ও সৈয়দা শাহীন মাহবুবের পক্ষে অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম, ব্যারিস্টার নিশাত মাহমুদ এবং মুহাম্মদ আওলাদ হোসেন রিটের শুনানি করেন।
জানতে চাইলে নগর-পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমাদের চাওয়া জনগণের মাঠ জনগণকে ফিরিয়ে দিতে হবে। অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’