ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এম. অহিদুজ্জামানসহ তিন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত ও তাঁদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ।
আজ মঙ্গলবার সংগঠনটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. পূর্বা ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থানের অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের সভাপতি ড. এম. অহিদুজ্জামান, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান এবং শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান লিটুকে সাময়িক বরখাস্ত এবং তাঁদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল গঠনের ঘটনায় তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন, ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত।
সংগঠনটি দাবি করে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটিতে অভিযুক্ত শিক্ষকের প্রতিনিধি রাখার এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে জেরা করার সুযোগ থাকলেও অধ্যাপক এম. অহিদুজ্জামান লিখিতভাবে একাধিকবার আবেদন করার পরও তাঁকে সে সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। একইসঙ্গে অভিযুক্তের প্রতিনিধির স্বাক্ষর ছাড়া সিন্ডিকেটে তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করাও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অধ্যাপক অহিদুজ্জামান তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপনের মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রমাণ করেছেন। এরপরও তাঁকে শাস্তি দেওয়া পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কিংবা ভিন্নমত দমনের সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ হতে পারে বলে দাবি করে সংগঠনটি। এর মাধ্যমে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা জ্ঞানচর্চা, প্রশ্ন, মতপ্রকাশ এবং অন্যায়ের সমালোচনা করবেন—এটাই মুক্ত ও গণতান্ত্রিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। মতপার্থক্যের সমাধান যুক্তি, আলোচনা, সহনশীলতা ও ন্যায়সংগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হওয়া উচিত; প্রশাসনিক ক্ষমতার প্রয়োগ বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে নয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সংগঠনটি বলেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুসারে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের আগে অভিযুক্ত শিক্ষকদের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি বিষয়টি ন্যায়সংগত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে পুনঃপর্যালোচনার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মহান স্বাধীনতার আদর্শের পক্ষে অবস্থানকারী শিক্ষাবিদরা যেন মতামত প্রকাশ করতে গিয়ে প্রশাসনিক হয়রানি কিংবা শাস্তির আশঙ্কায় নীরব হয়ে না পড়েন, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে দৃষ্টি দিতে হবে।
উল্লেখ্য, জুলাই আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এম. অহিদুজ্জামানসহ তিন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট।
গতকাল সোমবার (৩১ আগস্ট) অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাঁদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। এর প্রতিবাদেই বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ এ বিবৃতি দিয়েছে।