রাজধানীর মগবাজারের বিশাল সেন্টারে অবস্থিত ‘নবীন ফ্যাশনের দোকানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সাম্প্রতিক ঘটনাকে ‘ভুল-বোঝাবুঝি’ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন। আজ শনিবার দুপুরে বিশাল সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।
হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘উভয় পক্ষই ব্যবসায়ী। সহজভাবে আমরা এটার সমাধান চাই। এটা ছোট্ট একটি ঘটনা। আমরা বসে ১০ মিনিটে সমাধান করতে পারব। এখানে বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এখানেই বিষয়টা শেষ করি। এটা একধরনের ভুল-বোঝাবুঝি। কোনো বিরাগভাজনের সুযোগ নাই।’
সংবাদ সম্মেলনে লিখিতে বক্তব্যে বিশাল সেন্টার দোকান মালিক সমিতির সেক্রেটারি সরোয়ার হোসেন বলেন, রোজার শেষ দিন বিকেলে নবীন ফ্যাশনের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিশেষ অফার ঘোষণা করা হয়। অফার অনুযায়ী, দুটি পণ্য কিনলে চারটি ফ্রি এবং বাইকারদের জন্য অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়। এ ঘোষণার পরপরই বিপুলসংখ্যক ক্রেতা ও বাইকার মার্কেটে ভিড় জমায়। ফলে এলাকায় তীব্র যানজট ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।
সরোয়ার হোসেন বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তাকর্মী ও পুলিশ সদস্যরা কাজ করলেও শুরুতে তা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি অবনতির দিকে গেলে দোকান কর্তৃপক্ষ প্রথমে অফার বন্ধ করে এবং পরে নিরাপত্তার স্বার্থে দোকানটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। এতে উপস্থিত ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ ও কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা দেখা দেয়।
দোকান মালিক সমিতির নেতারা অভিযোগ করেন, তাঁদের সঙ্গে পূর্ব আলোচনা ছাড়া এ ধরনের অফার ঘোষণা করায় পুরো মার্কেটের পরিবেশ অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আংশিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় ঘটনাটি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। তারা আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানান।
প্রিন্স ডিপার্টমেন্টের মালিক জাহাঙ্গীর হোসেন মাইকেল বলেন, ‘আমরা সবাই ব্যবসায়ী, একসঙ্গে মিলেই ব্যবসা করতে চাই।’
জোরপূর্বক বন্ধের এক সপ্তাহ পর আদালতের নির্দেশে শনিবার নবীন ফ্যাশন শোরুমটি পুনরায় চালু করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার পর হাতিরঝিল থানার ওসি ও এক এএসআইকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তদন্তে ডিএমপি একটি কমিটি গঠন করেছে।
২০ মার্চ কম দামে পাঞ্জাবি বিক্রিকে কেন্দ্র করে দোকানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে ২৪ মার্চ মালিক এনামুল হাসান নবীন অভিযোগ তুলে দেশ ছাড়েন এবং নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন।