কুমিল্লায় ভয়াবহ ট্রেন-বাস সংঘর্ষে ১২ জন নিহতের ঘটনায় কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে গেটম্যান হেলাল উদ্দিন ও মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আহত বাসযাত্রী শেফালী আক্তার বাদী হয়ে লাকসাম রেলওয়ে থানায় আজ সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে এ মামলা করেন। লাকসাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন খন্দকার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, শেফালী আক্তার চুয়াডাঙ্গা থেকে মামুন স্পেশাল বাসে করে কুমিল্লার লাকসামে বাবার বাড়িতে আসছিলেন। পথে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার লেভেল ক্রসিং এলাকায় পৌঁছালে একটি ট্রেনের সঙ্গে বাসটির সংঘর্ষ ঘটে। এ ঘটনায় তিনি নিজে ছাড়াও তাঁর মা ও খালাসহ স্বজনরা আহত হন। এই দুর্ঘটনায় তিনি হারিয়েছেন ভাগনে সোহেল রানাকে। মালয়েশিয়া প্রবাসী সোহেল রানা ঈদ করতে দেশের বাড়ি চুয়াডাঙ্গায় এসেছিলেন। সেখান থেকে কুমিল্লার লাকসামে শেফালীর বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসার সময় ট্রেন-বাস দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তিনি। একই দুর্ঘটনায় সোহেল রানার স্ত্রী ও মেয়ে আহত হন। তারা ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাদীর অভিযোগ, লেভেল ক্রসিংয়ে দায়িত্বে থাকা গেটম্যানদের গাফিলতির ফলেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এ কারণে অভিযুক্ত দুই গেটম্যানসহ সংশ্লিষ্ট অন্যদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে মামলাটি করা হয়েছে।
গত শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার জাঙ্গালিয়া এলাকার পদুয়ার বাজারে ট্রেন-বাস সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের পদুয়ার বাজার লেভেল ক্রসিংয়ে ঢাকাগামী ‘চট্টগ্রাম মেইল’ ট্রেনের সঙ্গে চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষ্মীপুরগামী মামুন স্পেশাল পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ১২ জন নিহত এবং আহত হন আরও বেশ কয়েকজন। এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট দুই গেটম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।