কক্সবাজারের চকরিয়ায় সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট মো. তানজিম ছারোয়ার নির্জন হত্যা মামলায় ৪ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় পাঁচ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
একই ঘটনায় অস্ত্র আইনে পৃথক মামলায় ১৩ জনকে ১৭ বছরের কারাদণ্ডের রায় দেন বিচারক।
আজ বুধবার (২০ মে) দুপুরে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (পঞ্চম) আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী এই রায় ঘোষণা করেন। আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি খোরশেদ আলম চৌধুরী (এপিপি) এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন হেলাল উদ্দিন, মো. নাছির উদ্দিন, নুরুল আমিন ও মোর্শেদ আলম। তাঁদের বাড়ি চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত ৯ আসামি হলেন জালাল উদ্দিন ওরফে বাবুল, মোহাম্মদ আরিফ উল্লাহ, মো. আনোয়ার হাকিম, মো. জিয়াবুল করিম, ইসমাইল হোসেন, এনামুল হক তোতা এনাম, মোহাম্মদ এনাম, মোহাম্মদ কামাল ও আবদুল করিম।
হত্যা মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় খালাস পাওয়া পাঁচ আসামি হলেন মোহাম্মদ ছাদেক, আনোয়ারুল ইসলাম, শাহ আলম, আবু হানিফ ও মিনহাজ উদ্দিন। তাঁরা চকরিয়ার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার রায় ঘোষণার আগে বেলা ১১টায় আসামিদের কড়া নিরাপত্তায় আদালতে হাজির করা হয়।
বাদীপক্ষের প্রধান আইনজীবী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, ‘মামলার রায় ঘোষণার সময় অভিযুক্ত ১৩ জনের মধ্যে ১২ জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর ভোরে চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের মাইজপাড়া গ্রামে ডাকাতি প্রতিরোধ ও অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালায় যৌথ বাহিনী। এ সময় ডাকাতদের ছুরিকাঘাতে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট মো. তানজিম ছারোয়ার নির্জন (২৩) গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার পরদিন মধ্যরাতে সেনাবাহিনীর ফাঁসিয়াখালী ক্যাম্পের সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার আব্দুল্লাহ আল হারুনুর রশিদ বাদী হয়ে ডাকাতি ও হত্যা এবং পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে দুটি মামলা করেন। এতে ১৭ জনের নাম উল্লেখসহ ২৫ জনকে আসামি করা হয়। ২০২৫ সালের ১৯ জানুয়ারি পুলিশ তদন্ত শেষে হত্যা ও অস্ত্র আইনে পৃথক মামলায় ১৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেয়।
এপিপি খোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, ‘আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে দীর্ঘ শুনানি শেষে দুই মামলায় রায় ঘোষণা করেন।’
লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জনের বাড়ি টাঙ্গাইলে। তিনি ২০২২ সালে ৮২তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি থেকে আর্মি সার্ভিস কোরে (এএসসি) কমিশন লাভ করেন। তানজিম ছারোয়ার নির্জনের নামে রামু সেনানিবাসের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হয়।