বঙ্গোপসাগর ও নাফ নদী থেকে বিভিন্ন সময়ে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির হাতে আটক ২৪ জেলেকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে টেকনাফ-২ বিজিবি। ফেরত আসা জেলেদের মধ্যে ১৮ জন বাংলাদেশি ও ছয়জন রোহিঙ্গা।
আজ বুধবার বেলা ২টার দিকে বিজিবির দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আরাকান আর্মির সম্মতিতে নাফ নদীর শূন্যরেখা থেকে জেলেদের নেওয়া হয়। পরে তাঁদের টেকনাফ জেটিঘাটে নিয়ে আসা হয়।
দেশে ফিরে আসা জেলেরা বন্দী অবস্থায় তাঁদের ওপর চালানো ভয়াবহ নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন। তাঁরা জানান, আটকের পর তাঁদের নিয়মিত মারধর করা হতো। দিনে দুই বেলা অল্প পরিমাণ ভাত দেওয়া হতো। ঘর নির্মাণ, কৃষিকাজ, মাটি কাটাসহ বিভিন্ন ধরনের কায়িক শ্রমের কাজ করানো হতো। কাজ করতে না চাইলে মারধর করা হতো। ফেরত আসা জেলেদের কেউ আট মাস, আবার কেউ প্রায় দুই বছর ধরে বন্দী ছিলেন।
টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া জানান, ২০২৫ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে যাওয়া বেশ কিছু বাংলাদেশি জেলে অসচেতনভাবে বাংলাদেশের জলসীমা অতিক্রম করে মিয়ানমারের জলসীমায় প্রবেশ করেন। এ সময় আরাকান আর্মি তাঁদের আটক করে নিয়ে যায়।
মো. হানিফুর রহমান আরও জানান, আটক জেলেদের মিয়ানমারের অভ্যন্তরে আরাকান আর্মি নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন স্থানে অথবা জেলখানায় সাজা দিয়ে আটক রাখা হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মানবিক বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে বিজিবির উদ্যোগে আটক জেলেদের পর্যায়ক্রমে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে আজ ২৪ জন জেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
বিজিবির অধিনায়ক আরও জানান, স্থানীয় উপজেলা প্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করার পর দেশে ফিরিয়ে আনা জেলেদের তাঁদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বিজিবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১৯ আগস্ট পর্যন্ত আরাকান আর্মির হাতে মোট ৪৩৪ জন জেলে আটক হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২২২ জন বাংলাদেশি ও ২১২ জন রোহিঙ্গা।
এ পর্যন্ত ৩৪৮ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৫৭ জন বাংলাদেশি ও ১৯১ জন রোহিঙ্গা। বর্তমানে আরও ৮৬ জন জেলে আরাকান আর্মির হাতে বন্দী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৬৫ জন বাংলাদেশি ও ২১ জন রোহিঙ্গা। বন্দী জেলেদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে বিজিবির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।