কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে আগুনের ঘটনায় নিহত ১০ পর্যটকের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় দগ্ধ হয়েছেন আরও ছয়জন।
নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭), ফারিহা কবির (৩৩) এবং তার পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহম্মেদ।
ফারিহা কবিরের স্বামী নুর আলম। চাকরি সূত্রে নুর আলম চুয়াডাঙ্গার দক্ষিণ হাসপাতাল পাড়ার একটি ভাড়া বাসায় স্ত্রী ফারিয়া কবীর (৩৩) ও তাঁর পাঁচ বছর বয়সী ছেলে ফায়িজান আহম্মেদকে নিয়ে বসবাস করতেন।
ফারিয়া কবীর ও তাঁর সন্তানের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে চুয়াডাঙ্গা শহরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ফারিয়া কবীরের স্বামী নুর আলম ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র মার্কেটিং অফিসার হিসেবে চুয়াডাঙ্গায় কর্মরত। ১৪ অক্টোবর বেড়ানোর উদ্দেশ্যে তাঁরা কক্সবাজারে যান। সেখানে অবস্থানকালে আজ শনিবার সকালে ইনানী এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লাগে। এ ঘটনায় প্রাণ হারান ফারিয়া ও তাঁর শিশুসন্তান ফাইজানসহ পরিবারের একাধিক সদস্য। ফারিয়া কবীরের স্বামী নুর আলমের একটি জরুরি কাজ থাকায় গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকায় চলে আসেন।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় রিসোর্টের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সুমনকে আটক করেছে পুলিশ। আজ শনিবার বিকেলে রিসোর্ট এলাকা থেকে তাঁকে আটক করে উখিয়া থানা-পুলিশ।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সুবক্তগীন মাহমুদ সোহেল নিহত ও দগ্ধ ব্যক্তিদের পরিচয়ের তথ্য জানিয়েছেন।
দগ্ধ ছয়জন হলেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১) ও তাঁর স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)।
এর আগে আজ সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উখিয়া উপজেলার পাটুয়ারটেক সৈকতে টুপটুপ নামে একটি রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১০ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।