কক্সবাজারের টেকনাফে ঘুরতে নিয়ে গিয়ে অপহরণ ও মানব পাচার চক্রের শিকার পাঁচ যুবককে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মো. আনাস ওরফে মুন্না (১৯) নামের এক যুবককে আটক করা হয়েছে।
গতকাল রোববার ভোররাত ৫টার দিকে টেকনাফ উপজেলার সাবরাং জিরো পয়েন্টে মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন খনকারপাড়া ঘাট এলাকা থেকে তাঁদের উদ্ধার করা হয়। গতকাল রাত ৯টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এসআরবি-১৫-এর আইন ও গণমাধ্যম শাখার সহকারী পরিচালক ও সহকারী পুলিশ সুপার আ ম ফারুক।
উদ্ধার হওয়া যুবকেরা হলেন আল আমিন কাউসার (১৮), মো. রাশেদ (২০), সাকিবুল হাসান সাকিব (১৮), মো. সাইফুল ইসলাম (১৬) ও মো. আব্দুল্লাহ (১৬)। তাঁরা সবাই কক্সবাজারের রামু উপজেলার মিঠাছড়ি এলাকার বাসিন্দা।
আটক মো. আনাস ওরফে মুন্না টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ছোট হাবিবপাড়া এলাকার আবদুর রহিমের ছেলে।
এসআরবি ও ভুক্তভোগীদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ১১ সেপ্টেম্বর বিকেলে রামু উপজেলার মিঠাছড়ি এলাকার ওই পাঁচ যুবককে টেকনাফের সাবরাং জিরো পয়েন্ট সমুদ্রসৈকতসহ বিভিন্ন পর্যটন এলাকা ঘোরানোর কথা বলে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে নিয়ে যায় মুন্নাসহ একটি পাচারকারী চক্র।
পরে রাতে মুন্নার বাড়িতে থাকার কথা বলে যুবকদের চোখ গামছা দিয়ে বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পাশাপাশি নৌপথে অবৈধভাবে তাঁদের ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় পাচারের চূড়ান্ত পরিকল্পনা চলছিল।
ঘটনার পর ১৬ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগীদের পরিবারের পক্ষ থেকে এসআরবি-১৫-এর ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার ও গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে যুবকদের অবস্থান শনাক্ত করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনী।
এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল ভোরে সাবরাং খনকারপাড়া ঘাট এলাকায় অভিযান চালায় এসআরবি-১৫ টেকনাফ ক্যাম্পের একটি দল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রের অন্য সদস্যরা পালিয়ে গেলেও সেখান থেকে পাঁচ যুবককে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং হাতেনাতে আটক করা হয় মুন্নাকে।
এসআরবি কর্মকর্তা আ ম ফারুক জানান, উদ্ধার হওয়া যুবকদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরে আটক আসামিসহ তাঁদের টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত পাচারকারী চক্রের পলাতক ও অজ্ঞাতনামা অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও আটকে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।