কক্সবাজার বিমানবন্দর
অক্টোবরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা, বাড়ছে রানওয়ের সক্ষমতা
কক্সবাজার বিমানবন্দরের নবনির্মিত আন্তর্জাতিক টার্মিনাল থেকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হয়েছে। আজ সোমবার সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে ৭০ জন যাত্রী নিয়ে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট নতুন টার্মিনাল থেকে প্রথমবারের মতো যাত্রা করে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা, নভোএয়ার ও এয়ার অ্যাস্ট্রাসহ অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী সব এয়ারলাইন্স নতুন টার্মিনাল ব্যবহার করবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে গত বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও এয়ারলাইন্সগুলোকে চিঠি দেওয়া হয়।
কক্সবাজার বিমানবন্দরের পরিচালক গোলাম মোর্তোজা হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নতুন টার্মিনালে ১৪টি চেক-ইন কাউন্টার রয়েছে। এয়ারলাইন্সগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী এসব কাউন্টার ব্যবহার করতে পারবে।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের কক্সবাজারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুসা আহমেদ বলেন, নতুন টার্মিনাল থেকে ইউএস-বাংলার ফ্লাইট পরিচালনার মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন এই টার্মিনাল চালু হওয়ায় যাত্রী ও এয়ারলাইন্সগুলোর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে।
রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের সমন্বয়ক এম. মোশাররফ হোসেন জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী অক্টোবর থেকে কক্সবাজার বিমানবন্দর দিয়ে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হতে পারে। রানওয়ের অ্যাসফল্ট ওভারলে, সম্প্রসারণ ও লাইটিংসহ সংশ্লিষ্ট কাজ শেষ হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এম. মোশাররফ হোসেন বলেন, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বিমানবন্দর এখন প্রস্তুত।
কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হলে কক্সবাজারের পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। বিদেশি পর্যটকদের সরাসরি কক্সবাজারে আসার সুযোগ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটন ও এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে কয়েক বছর ধরে বিমানবন্দর আধুনিকায়নের কাজ চলছে। ১ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২১ সালের ২৯ আগস্ট শুরু হওয়া প্রকল্পের আওতায় নতুন টার্মিনাল ভবন নির্মাণের পাশাপাশি রানওয়ে সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন করা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় সমুদ্রের দিকে রানওয়ে ১ হাজার ৭০০ ফুট সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এতে রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৯ হাজার ফুট থেকে বেড়ে ১০ হাজার ৭০০ ফুট হয়েছে। সম্প্রসারিত রানওয়ে চালু হলে বড় আকারের উড়োজাহাজ ওঠানামার সক্ষমতা বাড়বে।
বেবিচক সূত্র জানায়, প্রায় ১৭ হাজার ৯৫৬ বর্গমিটার আয়তনের আন্তর্জাতিক টার্মিনালটি প্রায় ৩৬২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। টার্মিনালে ৪৫০ যাত্রী ধারণক্ষমতার প্রস্থান লাউঞ্জ, শুল্কমুক্ত দোকান, বোর্ডিং ব্রিজ, লিফট, এসকেলেটর, কনভেয়র বেল্ট, চেক-ইন ডেস্ক, বহির্গমন ও আগমন ইমিগ্রেশন কাউন্টার এবং আগমন লাউঞ্জ রয়েছে।
বহির্গমনকারী যাত্রীদের চারটি এবং আগমনকারী যাত্রীদের ছয়টি ইমিগ্রেশন ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে।
গত বুধবার নতুন টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতি পরিদর্শন করেন বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক। অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের কার্যক্রম নতুন টার্মিনালে স্থানান্তরের পর আগামী মাসে কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার কার্যক্রম উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছিলেন।
নতুন টার্মিনাল ও সম্প্রসারিত রানওয়ে চালুর মধ্য দিয়ে কক্সবাজার বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক যোগাযোগের নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।