নতুন ও পুরোনো রোহিঙ্গাদের মাঝে একই ধরনের ফুড কার্ড বিতরণের প্রতিবাদে কক্সবাজারের টেকনাফ শরণার্থী শিবিরে বিক্ষোভ করেছে ১৯৯২ সালে বাংলাদেশে আসা নিবন্ধিত রোহিঙ্গারা। পরিস্থিতি শান্ত করতে গেলে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে রোহিঙ্গা নারীরা। এতে এপিবিএনের ১২ সদস্য আহত হয়েছেন।
জানা যায়, ২০১৭ সালের জুন মাস থেকে মিয়ানমার হতে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের ফুড কার্ড দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এই কার্ড ও ২৯ বছর আগে আসা রোহিঙ্গাদের কার্ড একই হওয়ায় রোববার ভোর থেকেই নয়াপাড়া নিবন্ধিত ক্যাম্পে বিক্ষোভ করে পুরোনো নিবন্ধিত রোহিঙ্গারা। এ বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করতে এসে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরাও রোহিঙ্গা নারীদের হামলার শিকার হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে এপিবিএনের সদস্যরা।
কক্সবাজার ১৬ এপিবিএনের অধিনায়ক এসপি মো. তারিকুল ইসলাম তারিক বলেন, ফুড কার্ড বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে ক্যাম্পের পুরোনো রোহিঙ্গাদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। এপিবিএন সদস্যরা তাদের শান্ত করার চেষ্টা করলে রোহিঙ্গা নারীরা উল্টো উত্তেজিত হয়ে দফায় দফায় বিভিন্ন স্পটে ইট-পাটকেল মেরে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে। দুপুর ১১টা পর্যন্ত রোহিঙ্গা নারীরা উচ্ছৃঙ্খলতা করতে থাকে। ওই সময় তাদের ইটপাটকেলের আঘাতে এপিবিএনের ১২ জন সদস্য আহত হয়েছেন। এ ছাড়া পুলিশের অস্ত্র টানা হিঁচড়া শুরু করলে পুলিশ জানমাল রক্ষায় ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ৫ রাউন্ড ওপরের দিকে শটগানের গুলি করে। এতে রোহিঙ্গা নারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যায়।
তারিকুল ইসলাম আরও জানান, সন্ধ্যা নাগাদ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে কোনো রোহিঙ্গা ঘটনাস্থলে নেই। যে যার মতো করে শিবিরে চলে গেছে। আহত এপিবিএন সদস্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। সোমবার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) ও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) কর্তৃপক্ষ ফুড কার্ড বিষয়ে রোহিঙ্গা সঙ্গে বৈঠক করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।