পাখির চোখে সমুদ্র দেখার স্বপ্ন নিয়ে আকাশে উড়েছিলেন খুলনার তরুণ পর্যটক অক্ষর সৌভিক রায় (৩১)। কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই রোমাঞ্চ পরিণত হয় মর্মান্তিক ট্র্যাজেডিতে। নিরাপত্তা হারনেস থেকে ছিটকে বঙ্গোপসাগরে পড়ে প্রাণ হারান এই যুবক। গতকাল শনিবার দুপুরে কক্সবাজার শহরের দরিয়ানগর সৈকতে ফ্লাই এয়ার সি-স্পোর্টস পরিচালিত প্যারাসেইলিংয়ে ঘটে এ দুর্ঘটনা।
নিহত অক্ষর সৌভিক খুলনা শহরের বানিয়াখামার এলাকার স্যার ইকবাল রোডের শেখর রায়ের ছেলে। তিনি নয়জন বন্ধুর সঙ্গে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছিলেন।
অক্ষরের মৃত্যুর পর আকাশে উড়ে সমুদ্রদর্শনের এই পর্যটনসেবার নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একই প্রতিষ্ঠানে প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে আগেও একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে।
গত ১৫ জুন প্রায় ৩০০ ফুট ওপর থেকে সাগরে ছিটকে পড়েছিলেন টিপু সুলতান নামের নারায়ণগঞ্জের এক পর্যটক।
টিপু সুলতান আজকের পত্রিকাকে বলেছিলেন, প্যারাসেইলিং করার সময় হঠাৎ স্পিডবোটের সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ সময় তিনি ৩০০ ফুট ওপরে
আকাশ থেকে সমুদ্রে পড়ে যান। ছিটকে পড়ার পর প্রায় ২২ মিনিট পানিতে ভাসমান অবস্থায় থাকার পর তাঁকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন বলে জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ২ বছরের দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে অন্তত ১০ পর্যটক আহত হন। এই পয়েন্টের পাশে মেরিন ড্রাইভ-সংলগ্ন প্রেসিডেন্ট সৈকতে আরও চারটি প্যারাসেইলিং প্রতিষ্ঠান রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অদক্ষ জনবল, পর্যাপ্ত সরঞ্জাম ও আবহাওয়া বিবেচনা না করেই প্যারাসেইলিং পরিচালনা করার সময় দুর্ঘটনা ঘটছে।
দরদিয়ানগর এলাকার বাসিন্দা হেলালুল ইসলাম জানান, একজন পর্যটকের কাছ ৭ থেকে ১০ মিনিট প্যারাসেইলিংয়ের জন্য দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা আদায় করা হয়। বিপুলসংখ্যক পর্যটক প্যারাসেইলিংয়ে অংশ নেওয়ায় এটি লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে নিরাপত্তাব্যবস্থায় বিনিয়োগ বাড়েনি।
পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সৈকতে প্যারাসেইলিংসহ বিভিন্ন অ্যাডভেঞ্চার কার্যক্রম পরিচালনায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা মানদণ্ড ও তদারকি নেই। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পর্যটকদের নিরাপত্তা সরঞ্জাম, জরুরি উদ্ধার ব্যবস্থা এবং অপারেটরদের প্রশিক্ষণের বিষয়গুলো যথাযথভাবে যাচাই করা হয় না। ফলে অ্যাডভেঞ্চার পর্যটন প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তার মান নিশ্চিত করা না গেলে এ ধরনের দুর্ঘটনা পর্যটকদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
অভিযোগের বিষয়ে প্যারাসেইলিং পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক মোহাম্মদ ফরিদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অবশ্য গত মঙ্গলবার থেকে বৈরী আবহাওয়ায় সাগর উত্তাল থাকায় প্যারাসেইলিং বন্ধ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান। তিনি বলেন, ‘আমাদের অগোচরে প্যারাসেইলিং হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’