হোম > সারা দেশ > কক্সবাজার

সেন্ট মার্টিনে খতনা করানো অর্ধশতাধিক শিশুর ক্ষতস্থানে সংক্রমণ, হাসপাতালে ২

কক্সবাজার প্রতিনিধি

গত ৪ অক্টোবর সেন্টমার্টিন অবকাশ রিসোর্টে ‘আল মোমিন সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও সুন্নতে খতনা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের সেন্ট মার্টিন দ্বীপে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা ও সুন্নতে খতনা কর্মসূচিতে খতনা করানো অন্তত ৫০ শিশুর ক্ষতস্থানে সংক্রমণ ও রক্তক্ষরণের অভিযোগ উঠেছে। খতনার তিন দিন পর মঙ্গলবার এসব শিশুর কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বজনেরা তাদের সেন্ট মার্টিন দ্বীপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। এর মধ্যে দুই শিশুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৪ অক্টোবর সেন্ট মার্টিন অবকাশ রিসোর্টে ‘আল মোমিন সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশনের’ উদ্যোগে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা ও সুন্নতে খতনা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে দ্বীপের ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী ২১০ শিশুর খতনা করা হয়। কর্মসূচি শেষে শিশুদের বিনা মূল্যে ওষুধও দেওয়া হয়।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, একজন এমবিবিএস চিকিৎসকের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের একটি মেডিকেল টিম ওই কর্মসূচিতে চিকিৎসাসেবা দেয়।

তবে খতনার তিন দিন পর মঙ্গলবার সকাল থেকে কয়েকজন শিশুর ক্ষতস্থানে সংক্রমণ ও রক্তক্ষরণ দেখা দেয়। পরে স্বজনেরা তাদের সেন্ট মার্টিন দ্বীপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান।

স্বাস্থ্যকেন্দ্র সূত্রের দাবি, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খতনা করানো ৫০ শিশু সংক্রমণ ও রক্তক্ষরণের সমস্যা নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসে। তাদের মধ্যে মো. ফয়সাল ও আইনুল ইসলাম নামে দুই শিশুর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. এনামুল হক বলেন, সেন্ট মার্টিনে একটি মেডিকেল টিম দুই শতাধিক শিশুর খতনা করেছে। এর মধ্যে বেশ কিছু শিশু অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্বীপের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। দুই শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ডা. এনামুল হক আরও বলেন, সেন্ট মার্টিনে মেডিকেল টিমের কার্যক্রম সম্পর্কে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে অবহিত করা হয়নি।

খতনার পর সেন্ট মার্টিনে বেশ কিছু শিশু অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে বলে শুনেছেন জানিয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, বিষয়টি খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। মেডিকেল টিমের কোনো গাফিলতি পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।