বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে নারী ও শিশুদের জন্য আলাদা নিরাপদ জোন করা হয়েছে। যে পয়েন্টে শুধু নারী ও শিশুরা গোসল করতে পারবেন। আজ বুধবার সকালে সৈকতের লাবণী পয়েন্টে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ।
সাম্প্রতিক কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে অবকাশে এসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন এক নারী পর্যটক। এ ঘটনার পর সমুদ্রসৈকতে নারী পর্যটকদের নিরাপত্তায় নড়েচড়ে বসে জেলা প্রশাসন। সৈকতে নামা নারী পর্যটকদের সুরক্ষা, নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যে স্নান নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে এ উদ্যোগে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পর্যটকেরা।
চট্টগ্রাম শহর থেকে আসা পর্যটক শর্মিষ্ঠা দাশ বলেন, পুরো সৈকতেই নারীদের নিরাপদে গোসল ও ঘোরাফেরার ব্যবস্থা থাকা দরকার। সীমাবদ্ধ করে দেওয়ার বিষয়টি কারও জন্য সুবিধা হলেও সবার জন্য ভালো হবে বলে মনে হয় না।
ঢাকার উত্তরা থেকে পরিবার নিয়ে এসেছেন ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, কেউ যদি কলাতলী এলাকায় হোটেলে উঠে, তাহলে তারা তো আর লাবণী পয়েন্টে গোসল করতে আসবে না। এসব বিষয়ও বিবেচনায় আনা দরকার।
অবশ্য সিলেটের বিয়ানীবাজার থেকে আসা নারী পর্যটক সায়মা আক্তার এ উদ্যোগ প্রশংসিত বলে মনে করছেন। তিনি বলেন, এ জোনের কারণে যেসব নারী ব্যাপক লোকসমাগমে সৈকতে নেমে গোসল করতে চান না, তাঁদের জন্যে খুবই ভালো হবে।
আজ বুধবার দুপুরে লাবণী পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, সংরক্ষিত এলাকাটি চতুর্দিকে পতাকা পুঁতে দেওয়া হয়েছে। সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন ট্যুরিস্ট পুলিশের কয়েকজন নারী সদস্য। তাঁরা নতুন এই জোন সম্পর্কে মাইকিং করে পর্যটকদের বিষয়টি অবগত করছেন।
জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, পর্যটন এলাকা নারীবান্ধব করার জন্য সৈকতে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের বড় একটি অংশে নারীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের মধ্যেও নারী পুলিশ রয়েছেন। প্রশাসন চায় সৈকতে নারী ও শিশুরা বিশেষ সুরক্ষায় থাকবে। এর ফলে এ জোনে নারী পর্যটকেরা নির্বিঘ্নে গোসল ও ঘুরতে পারবেন।