বঙ্গোপসাগরে ইঞ্জিন বিকল হয়ে দীর্ঘ ৩৬ দিন ধরে ভাসমান থাকার পর শ্রীলঙ্কার দুই জেলেকে জীবিত উদ্ধার করেছেন কক্সবাজারের মহেশখালীর স্থানীয় জেলেরা। উদ্ধার হওয়া দুই জেলে সম্পর্কে বাবা ও ছেলে।
শনিবার (২৫ জুলাই) সাগরে মাছ ধরে ফেরার পথে মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া এলাকার স্থানীয় জেলেরা তাঁদের ভাসমান বোটসহ উদ্ধার করে উপকূলে নিয়ে আসেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়নের বাসিন্দা জিয়াউর রহমানের মালিকানাধীন একটি ফিশিং বোট সাগরে মাছ ধরা শেষে কূলে ফিরছিল। পথে বঙ্গোপসাগরের গুলিরধার এলাকায় একটি ডেনমার্কের ফিশিং বোটকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে ভাসতে দেখে সন্দেহ হয় বাংলাদেশি জেলেদের।
কাছে গিয়ে দেখা যায়, বোটটির ইঞ্জিন সম্পূর্ণ বিকল হয়ে গেছে এবং তার ভেতর শ্রীলঙ্কার নাগরিক বাবা-ছেলে মারাত্মক অসুস্থ অবস্থায় পড়ে আছেন। পরিস্থিতি দেখে মহেশখালীর জেলেরা দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করেন এবং নিজেদের ট্রলারের সঙ্গে বিদেশি বোটটি বেঁধে তাজিয়াকাটা ঘাটে নিয়ে আসেন।
উদ্ধার হওয়া জেলেদের বরাত দিয়ে ট্রলার মালিক জিয়াউর রহমান জানান, সাগরে ভেসে থাকার একপর্যায়ে তাঁদের সব খাবার ও পানীয় শেষ হয়ে যায়। ফলে তীব্র খাদ্যসংকটে পড়ে জীবন বাঁচাতে তাঁরা সাগরের কাঁচা মাছ খেয়ে ৩৬ দিন টিকে ছিলেন।
দীর্ঘদিন সাগরে আটকে থাকা এবং পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাবে দুজনই চরম শারীরিক দুর্বলতায় ভুগছেন। বর্তমানে উদ্ধার করা দুই শ্রীলঙ্কান জেলেকে কুতুবজোমে জিয়াউর রহমানের নিজ বাড়িতে প্রাথমিক চিকিৎসা ও আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি জানার পর প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। বোট মালিক জিয়াউর রহমান জানান, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও মহেশখালী থানা-পুলিশ উদ্ধার হওয়া জেলেদের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছে।
স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শ্রীলঙ্কান দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে আনুষ্ঠানিক আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর উদ্ধার হওয়া দুই জেলেকে দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।