হোম > সারা দেশ > কক্সবাজার

কক্সবাজার সৈকতে ভাঙন, মানবসৃষ্ট কারণও দায়ী

মাইনউদ্দিন শাহেদ, কক্সবাজার

কক্সবাজার সৈকতের বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ভাঙন। ছবি: আজকের পত্রিকা

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার। এর সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশ-বিদেশ থেকে ছুটে আসেন হাজারো পর্যটক। তবে ভাঙনে সৌন্দর্য হারাচ্ছে এ সৈকত। অথচ একে রক্ষায় কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

সৈকত নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, এক দশকের মধ্যে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে এ বছরেই বেশি ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত দুই মাসের ভাঙনে কক্সবাজার শহর ও আশপাশের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলো বেহাল। এসব এলাকায় তীরজুড়ে উপড়ে পড়েছে ঝাউগাছ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তিন বছর আগে থেকে তীব্র হওয়া ভাঙন এ বছর রুদ্র রূপ নিয়েছে। শহরের নাজিরারটেক থেকে কলাতলী পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার সৈকতের বিভিন্ন অংশে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কয়েক বছর ধরে জিও ব্যাগের প্রতিরক্ষা বাঁধ দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করেও ফল পায়নি। ঢেউয়ের তোড়ে এসব জিও ব্যাগ ছিঁড়ে তছনছ হয়ে সাগরে বিলীন হচ্ছে।

কক্সবাজার সৈকতের বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ভাঙন। ছবি: আজকের পত্রিকা

সৈকতে এমন ভাঙনের কারণ অনুসন্ধান করেছে বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বোরি) একদল বিজ্ঞানী। গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁরা এ কার্যক্রম চালান। তাঁরা ভাঙনের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কারণ তুলে ধরার পাশাপাশি ভাঙনরোধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, তা তুলে ধরে বেশ কিছু সুপারিশ দিয়েছেন।

বোরির পরিবেশ ওশানোগ্রাফি ও জলবায়ু বিভাগের জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আবু শরীফ মো. মাহবুব ই কিবরিয়ার নেতৃত্বে ছয়জন বিজ্ঞানী অনুসন্ধান শেষে ৭ অক্টোবর একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। এতে বলা হয়, কক্সবাজার শহর থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার সমুদ্র উপকূলে পর্যটকদের পছন্দের স্পট সুগন্ধা, লাবণী ও কলাতলীর তিন কিলোমিটারে ভাঙন সবচেয়ে বেশি। এর পাশের দরিয়ানগর পর্যটনপল্লি ও হিমছড়ি এলাকাও ভাঙছে। এসব এলাকায় ৩ থেকে ১০ ফুট পর্যন্ত গভীর খাদ তৈরি হয়েছে। এতে ক্ষয়ক্ষতিও বেশি। এ বছর ভাঙন অতিমাত্রায় হওয়ার পেছনে ভারী বর্ষণ, বন্যা ও জলাবদ্ধতাকে প্রধান কারণ বলা হলেও এতে মানবসৃষ্ট কয়েকটি কারণ উঠে এসেছে।

ভাঙনের কারণ

মাহবুব ই কিবরিয়া বলেন, পাহাড় থেকে নেমে আসা পানি সাগর বা নদীতে নেমে যাওয়ার ছড়া ও খালগুলোর অবস্থান এবং গতিপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া কক্সবাজার শহরের সৈকতে বালিয়াড়ির ক্ষয়রোধে প্রাকৃতিকভাবে যে বায়োশিল্ড বা জৈব প্রতিরোধব্যবস্থা ছিল, তা এখন নেই। সাধারণত প্রাকৃতিক সৈকতে তিন ধাপের উদ্ভিদ থাকে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে সাগরলতাজাতীয় বীরুৎ উদ্ভিদ, তারপর নিশিন্দা, কেয়া, আকন্দের মতো গুল্ম উদ্ভিজ্জ এবং তৃতীয় ধাপে হিজল, তমাল অথবা ঝাউজাতীয় বৃক্ষ। বালিয়াড়ি গঠন ও ভাঙনরোধে সাগরলতা বেশি কার্যকর হলেও কক্সবাজারের উপকূলে তা নষ্ট করে প্রধম ধাপেই অপরিকল্পিতভাবে ঝাউগাছ সৃজন করা হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাগরের উচ্চতা বাড়ছে জানিয়ে বোরির ভূতাত্ত্বিক ওশানোগ্রাফি বিভাগের জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, কক্সবাজার সাগর লাগোয়া পাহাড় থেকে পানি নামার জন্য যেসব প্রাকৃতিক ছড়া ছিল, তার বেশির ভাগই হারিয়ে গেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উন্নয়নকাজের সময় এসব ছড়া ও খালগুলো অক্ষুণ্ন রাখা যায়নি; যা আছে তার পরিসরও ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে ছোট হয়ে এসেছে। এর ফলে পাহাড়ি ঢল নামলে সৈকতের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ভাঙন দেখা দেয়।

কক্সবাজার সৈকতের বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ভাঙন। ছবি: আজকের পত্রিকা

প্রতিকারের উপায়

সৈকতের ভাঙনরোধে তিন ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব করেছেন বিশেষজ্ঞ দলের প্রধান ও জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাহবুব ই কিবরিয়া। প্রতিবেদনে ভাঙনরোধে যে প্রতিকারের ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে, তা হলো—প্রাকৃতিক সুরক্ষা ব্যবস্থা, সেমি-ইঞ্জিনিয়ারিং সমাধান (পর্যটকদের জন্য পাসওয়ে নির্মাণ, সফট ফেঞ্চিং, নিয়মিত বিচ নরিশমেন্ট, জিও ব্যাগ স্থাপন ইত্যাদি) এবং হার্ড ইঞ্জিনিয়ারিং সমাধান (ওয়েব ব্রেকার, গ্রোয়েন (বাঁধ) স্থাপন, সি-ওয়াল ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ ইত্যাদি)।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যা বলছেন

এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. সরওয়ার আলম বলেন, প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট বন নষ্ট না করে বনায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সৈকতে ভাঙনরোধে বনায়নে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণের জন্য বন বিভাগকে অনুসরণ করা হয়েছে বলে জানান কক্সবাজার পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আসিফ মাহমুদ।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত কমোডর নুরুল আবছার বলেন, সেনাবাহিনীর মাধ্যমে কক্সবাজারের মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলছে। এ কাজ শেষ হলেই সমন্বিত উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

টেকনাফে গুলিবিদ্ধ এক ডাকাত সদস্যের মরদেহ উদ্ধার

মাতারবাড়ী তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের ভাগাড়ে আগুন

টেকনাফ সীমান্তে গুলির প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ, নিরাপত্তা দাবি

মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে এবার রোহিঙ্গা যুবক আহত, চমেকে ভর্তি

দুদকের আরেক মামলায় কক্সবাজারের সাবেক পৌর মেয়রের কারাদণ্ড

টেকনাফে পুঁতে রাখা মাইনে উড়ে গেল যুবকের পা

মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে টেকনাফে শিশু গুলিবিদ্ধ, ৫৩ অনুপ্রবেশকারী আটক

মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে টেকনাফে শিশুসহ কয়েকজন আহত

টেকনাফে জেলের জালে ধরা পড়ল ১০৯ মণ ছুরি মাছ, ৮ লাখের বেশি টাকায় বিক্রি

টেকনাফ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুই পক্ষের গোলাগুলি, নিহত ১