হোম > সারা দেশ > কক্সবাজার

কক্সবাজারে আগুনে ১০ পর্যটকের মৃত্যু: দোতলা থেকে লাফ দিয়ে বাঁচেন আশিক

কক্সবাজার প্রতিনিধি ও আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

পুড়ে যাওয়া টুপটুপ রিসোর্ট। ছবি: আজকের পত্রিকা

সকালে ঘুম থেকে উঠে ঢাকায় ফেরার কথা ছিল আশিকুল ইসলাম (৩৫) ও তাঁর স্বজনদের। কিন্তু আশিক ও দুই স্বজন বেঁচে ফিরলেও তাঁদের ছয়জন সফরসঙ্গী পুড়ে অঙ্গার হয়ে ফিরছেন। তিন দিন আগে ঢাকার দক্ষিণ বনশ্রীর পশ্চিম নন্দীপাড়া থেকে আশিকুল ইসলাম স্ত্রী ও স্বজনদের নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছিলেন। উঠেছিলেন মেরিন ড্রাইভ সড়কে সাগরপাড়ের ইকো রিসোর্ট টুপটুপে।

আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের এই রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন পর্যটক প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে ছয়জন আশিকের পরিবার ও তাঁর নিকটাত্মীয়।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন আশিকুল ইসলামের স্ত্রী ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), শ্যালিকা মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), খালা শাশুড়ি চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩), তাঁর পাঁচ বছর বয়সী সন্তান ফায়িজান আহমেদ ও ভাই কৌশিক জেরিফ (২৪)। আশিক ছাড়া আহত অন্য স্বজনেরা হলেন মেহেরুন্নেসা (৩০) ও তাঁর স্বামী মাসুদ আহমেদ (৩২)।

আশিকুল ইসলাম জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় তাঁরা ঘুমের মধ্যে ছিলেন। এ সময় তিনি দোতলা থেকে লাফ দিয়ে বেঁচে যান। এরপর কী হয়েছে, তাঁর মনে নেই।

রিয়াজ মাহমুদ রিপন ও আমিরুল ইসলাম নামে নিহতদের দুই স্বজন শনিবার বিকেলে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে কক্সবাজার ছুটে আসেন। তাঁরা নিহত ছয়জনের পরিচয় নিশ্চিত করতে পেরেছেন বলে জানান।

রিয়াজ মাহমুদ রিপন বলেন, নিহতেরা দক্ষিণ বনশ্রীতে একই বিল্ডিংয়ে থাকতেন। কেউ শিক্ষার্থী, কেউ কর্মজীবী ও কেউ গৃহিণী ছিলেন। আজ শনিবার সকালে তাঁদের ঢাকায় ফেরার কথা ছিল। কিন্তু ঘুম থেকে ওঠার আগেই তাঁরা পুড়ে মারা গেলেন।

নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রশাসনের থেকে ডিএনএ পরীক্ষার পর মরদেহ হস্তান্তর করার কথা বলা হয়েছে। আমরা সে হিসেবে প্রস্তুতি নিচ্ছি। আহত তিনজনকে বিমানে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

নিহত ছয় স্বজনের মধ্যে তিনজনের বাড়ি বরগুনার আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের কালিপুরা গ্রামে। অবসরপ্রাপ্ত উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. কবির তালুকদারের মেয়ে ফারিহা কবির, ছেলে কৌশিক জেরিফ ও নাতি ফায়িজান আহমেদ।

ফারিহা কবিরের জামাতা নুরে আলম চুয়াডাঙ্গায় একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন। কৌশিক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য পাস করে চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় আমতলীর কালিপুরা এলাকায় ও পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

অবসরপ্রাপ্ত যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. কবির তালুকদার কান্নাজনিত কন্ঠে বলেন, ‘আমার কিছুই রইল না। ছেলে, মেয়ে ও নাতি মারা গেছে। তারপর ভায়রার পরিবারের চারজন মারা গেছেন।’

কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে নিহত ১০, স্ত্রী-ছেলেকে হারালেন নুর আলম

কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: নিহত ১০ পর্যটকের মধ্যে ৬ জনের পরিচয় শনাক্ত, ব্যবস্থাপক আটক

কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে প্রাণহানি বেড়ে ১০

কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: উধাও কর্তৃপক্ষ, উদ্ধার সহায়তায় বিজিবি

কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন, কমপক্ষে ৬ জনের প্রাণহানি

রবীন্দ্রনাথের ছবিতে কালি লেপনের প্রতিবাদে কক্সবাজারে ‘শতকণ্ঠে রবীন্দ্র-নজরুল’

উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অস্ত্র-গুলিসহ দুই সহোদর আটক

উখিয়ায় ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ না পেয়ে শিশু হত্যা, রোহিঙ্গা দম্পতি গ্রেপ্তার

অপসারণ হয়নি আগের চার খুঁটি, ঝুঁকিতে সেতু

টেকনাফে অটোরিকশা-মিনিট্রাক সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩