পুলিশের বিভিন্ন থানা ও সরকারি দপ্তর থেকে হারানো অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে তথ্যদাতাকে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন র্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান। আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাটে র্যাব-৭-এর চান্দগাঁও ক্যাম্পের (সিপিসি-৩) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন।
মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রাইফেল, সাবমেশিনগান (এসএমজি), লাইট মেশিনগান (এলএমজি) ও স্নাইপার উদ্ধারে সহায়তা করলে দুই লাখ টাকা এবং শটগান, পিস্তল ও গ্যাসগানের ক্ষেত্রে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। এ ছাড়া প্রতিটি সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেলের তথ্যের জন্য ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং প্রতি রাউন্ড গোলাবারুদের জন্য ৫০ টাকা হারে পুরস্কার দেওয়ার কথা জানান র্যাবের এই কর্মকর্তা।
আগামী ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত স্বেচ্ছায় ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এসব অস্ত্র বা গোলাবারুদের বিষয়ে তথ্য দিলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না বলে জানান র্যাব-৭-এর অধিনায়ক।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রাম নগর ও জেলায় পুলিশের বিভিন্ন থানা, ফাঁড়ি ও অন্যান্য স্থাপনায় হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, সরকারি অস্ত্র, গোলাবারুদসহ অন্যান্য মালামাল লুট করে নিয়ে যায় উচ্ছৃঙ্খল জনতা। চট্টগ্রাম নগরে পুলিশের হারানো ও লুট হওয়া এসব অস্ত্রের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাইরে রয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে, লুট হওয়া সেসব অস্ত্র বিভিন্ন অপরাধীর হাতে রয়েছে। হারানো এসব অস্ত্র উদ্ধারে সম্প্রতি দেশব্যাপী বিশেষ সমন্বিত যৌথ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
র্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সরকারি অস্ত্র রাষ্ট্রের সম্পদ এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রধান হাতিয়ার। এই অস্ত্র যখন কোনো অপরাধী, দুষ্কৃতকারী বা স্বার্থান্বেষী মহলের হাতে চলে যায়, তখন তা পুরো সমাজের জন্য এক বিরাট হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।’
মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, ‘অস্ত্র ভুল হাতে থাকলে সহিংসতা, চাঁদাবাজি ও সামাজিক অস্থিরতা বাড়ার আশঙ্কা তীব্র হয়ে ওঠে। তাই এই হারানো অস্ত্র উদ্ধার করা শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একক দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের সবার নাগরিক দায়িত্ব।’
সরকার র্যাবের নেতৃত্বে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে সরকারি হারানো অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে বিশেষ অভিযানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান তিনি।
র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আপনার আশপাশে যদি কোনো অবৈধ বা সরকারি হারানো অস্ত্রের সন্ধান থাকে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে জানান। অস্ত্রের তথ্যদাতার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা এবং তাঁর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য দিলে আইনি সুরক্ষাও মিলবে।’
তবে আগামী ১৫ নভেম্বরের পর কারও কাছে হারানো সরকারি অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাওয়া গেলে বা এ-সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নগরের আটটি থানা ও আটটি ফাঁড়ি এবং দামপাড়া পুলিশ লাইনসে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ এবং আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করা হয়। এসব স্থাপনায় অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয় সাড়ে ২১ কোটি টাকার ওপরে। এ সময় থানা ও ফাঁড়িগুলো থেকে পাঁচ শতাধিক আগ্নেয়াস্ত্র ও ১২ হাজার রাউন্ড গুলি লুট হয়। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি পরে উদ্ধার হয়েছে।