চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলার দেয়াঙ পাহাড়ে গত ৮ বছর ধরে অবস্থান করছিল একপাল হাতি। প্রায়ই হাতিরা লোকালয়ে নেমে এসে আক্রমণ চালাতো। এতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিল স্থানীয় স্থানীয়রা। চলতি বছরের এপ্রিলে চারটি হাতি বাঁশখালী বনে ফিরে গেলে স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফেরে। তবে তিন মাস পর আবার একটি হাতি লোকালয়ে এসে তাণ্ডব চালিয়েছে।
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় একটি হাতিকে আনোয়ারা উপজেলার কেইপিজেডের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরতে দেখেন স্থানীয়রা। হাতির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর এলাকার মো. মহিউদ্দিন ও ফকিরখীল এলাকার একাধিক ব্যক্তির দাবি, হাতির তাণ্ডবে মুহাম্মদপুর এলাকার বেশ কয়েকটি বসতঘরের পাকা দেয়াল ও ধানখেতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘শনিবার ভোররাতে বিকট শব্দ শুনে হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায়। উঠে দেখি একটি হাতি পাশের কক্ষের দেয়াল ভেঙে ধানের বস্তা টেনে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা কোনোরকমে ঘর থেকে বেরিয়ে গিয়ে প্রাণ রক্ষা করি।’
মুহাম্মদপুর এলাকার আরেক বাসিন্দা মো. শাহেদুল আলম বলেন, তিন মাস এলাকার মানুষ হাতির তাণ্ডব থেকে রক্ষা পেলেও আবার শুরু হয়েছে। মানুষ-হাতি দ্বন্দ্ব নিরসন এবং লোকালয়ে বন্য হাতি প্রবেশ রোধে গঠিত ‘এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি)’ হলেও হাতির আক্রমণের সময় তাদের দেখা যায় না। এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারিতে রাখা প্রয়োজন।
বন বিভাগের বাঁশখালী জলদী রেঞ্জ অফিসের কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফোরকান বলেন, আনোয়ারা ও কেইপিজেড এলাকায় হাতি আসার বিষয়টি শুনেছি। ৩ মাস পরই একটি হাতিকে লোকালয় ও কেইপিজেডের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরতে দেখছেন বাসিন্দারা। আমাদের ইআরটি টিমের সদস্যরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন।
এ বিষয়ে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দিন বলেন, ‘লোকালয়ে হাতি আসার খবরটি স্থানীয়দের মাধ্যমে শুনেছি। বন বিভাগকে বিষয়টি জানানো হবে এবং স্থানীয়দের সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।’