চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে নিজ গ্রুপের এক কর্মীকে সিট না দেওয়ায় হল প্রভোস্টকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চবি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমানের বিরুদ্ধে। এ-সংক্রান্ত একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। এ ঘটনার পর হল প্রভোস্টের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মান্নান।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মান্নান ও ছাত্রদল শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমানের কথোপকথনের একটি অডিও ছড়িয়ে পড়ে।
জানা গেছে, সদ্য স্নাতকোত্তর শেষ করা চবি ছাত্রদল কর্মী রাশিদুল ইসলামের সিট বরাদ্দের বিষয়ে সোহরাওয়ার্দী হলের প্রভোস্টের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ছাত্রদল নেতা আব্দুল্লাহ আল নোমান। ওই শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব না থাকায় তাঁকে সিট বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানানো হলেও নোমান তাঁকে সিট দেওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করেন। একপর্যায়ে এ নিয়ে প্রভোস্টের সঙ্গে তাঁর বাগ্বিতণ্ডা হয় এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
ছড়িয়ে পড়া অডিওতে আব্দুল্লাহ আল নোমানকে বলতে শোনা যায়, ‘না স্যার, আপনি কি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট কমিটির চেয়ারম্যান? আপনার হলে মেধার ভিত্তিতে সিট কয়টা? মেধার ভিত্তিতে সিট কয়টা দিছেন? শিবিরকে কীভাবে এস্টাবলিশ করছেন? আপনি এটার উত্তর দিবেন। ছাত্র হিসেবে আমাদের জানার অধিকার আছে।’
অডিওতে আরও বলতে শোনা যায়, ‘আপনি যেভাবে এস্টাবলিশ করছেন, শিবিরকে কীভাবে ঢুকিয়েছেন, তুলেছেন, আপনি এটার তালিকা প্রকাশ করবেন। তালিকা দিবেন। আপনি কি ভিসি, প্রো-ভিসির চেয়ে বড়?’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সদ্য পদত্যাগ করা হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ঘটনাটি আগের দিনের। ওই শিক্ষার্থী এমফিলে ভর্তি হওয়ার কথা বলেছেন, তবে এখনো তাঁর ভর্তি সম্পন্ন হয়নি। এমফিলে ভর্তি হতে প্রায় এক বছর সময় লাগে। তাই সিট-সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি ওই শিক্ষার্থীকে কোনো অনুমোদন দেননি।
তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতার সঙ্গে তাঁর ভালো সম্পর্ক রয়েছে। হয়তো সিটপ্রত্যাশী ওই শিক্ষার্থী বিষয়টি নিয়ে তাঁকে কিছু বলেছে, আর তাতেই তিনি উত্তেজিত হয়ে এমন কথা বলেছেন। তিনি যা বলেছেন, তা সুন্দর কিছু নয়। তবে এ বিষয়ে তিনি আর কথা বলতে চান না।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চবি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, তাঁর সঙ্গে প্রায় চার মিনিট কথা হয়েছে। সেখানে দুই মিনিটের রেকর্ডিং প্রকাশ করা হয়েছে। বাকি দুই মিনিটের রেকর্ডিংও প্রকাশ করা উচিত।
তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থীকে সিট সংক্রান্ত বিষয় বুঝিয়ে বলা যেতে পারে। কিন্তু তাঁর মা-বাবাকে নিয়ে কথা বলা যায় না। ওই শিক্ষার্থী মাস্টার্সে ছিলেন এবং মাস্টার্স পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য আবেদন করেছিলেন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যও সুপারিশ করেছিলেন। কিন্তু প্রভোস্ট বলেছেন, তিনি উপাচার্যকেও গোনেন না।
নোমান আরও বলেন, ‘আমি জানতে চেয়েছি, আপনার হলে মোট সিট সংখ্যা কত এবং মেধার ভিত্তিতে কতটি সিট দেওয়া হয়—এই প্রশ্ন করাটা কি আসলেই হুমকি? আর ওই শিক্ষার্থী এমফিলে ভর্তি হয়েছেন কি না, সে বিষয়েও ডকুমেন্ট রয়েছে।’
এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির।
সোমবার রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট মোড়ে এ কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি। মিছিলটি জিরো পয়েন্ট মোড় থেকে শুরু হয়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল ও স্যার এ এফ রহমান হল প্রদক্ষিণ করে আবার জিরো পয়েন্টে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা।