চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন আরও এক শ্রমিক মারা গেছেন। তাঁর নাম ইদ্রিস আলী (৫০)। গতকাল বুধবার রাতে ঘটনার ছয় দিন পর নগরীর বেসরকারি একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ নিয়ে ওই দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে।
গত শুক্রবার উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের সাগর উপকূলে ফেরদৌস স্টিল নামের একটি কারখানার ইয়ার্ডে জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। এতে অন্য শ্রমিকদের সঙ্গে গুরুতর আহত হন ইদ্রিস আলী। তাঁকে চট্টগ্রাম নগরীর ন্যাশনাল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে ছয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গতকাল রাতে তিনি মারা যান।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ইদ্রিস আলীর মরদেহের আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁর গ্রামের বাড়ি জামালপুরে পাঠানো হয়েছে। ওই ঘটনায় জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য ও সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ন্যাশনাল হাসপাতালের উপমহাব্যবস্থাপক মো. ফারুক বলেন, জাহাজভাঙা কারখানায় গ্যাসের বিষক্রিয়ায় অসুস্থ শ্রমিক ইদ্রিস আলীকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর পরদিন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
গত শুক্রবারের ওই দুর্ঘটনায় ৯ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি ইদ্রিস আলীসহ ১০ জনের অধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ ঘটনায় শিল্প মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও বিএসবিআরের পক্ষ থেকে পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। দুর্ঘটনার ছয় দিন অতিবাহিত হলেও এখনো স্বজনদের পক্ষ থেকে থানায় কোনো মামলা হয়নি। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।