চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জ্বালানি সংকটের মধ্যে জেনারেটর চালাতে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের পক্ষে ২০০ লিটার ডিজেল পাঠানোর দাবি উঠেছে। তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আজ দুপুরে এক ব্যক্তি ভ্যানে করে এক ড্রাম তেল নিয়ে হাসপাতালে আসেন। তেল সরবরাহকারী ব্যক্তির নাম-পরিচয় জানাতে না পারায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই তেল গ্রহণ করেনি।
মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘অজ্ঞাত ব্যক্তির পরিচয় না জানা পর্যন্ত আমরা তেল নিতে পারব না বলার পর তাঁরা নিজেরাই তেলের ড্রামটি রেখে চলে যান।’
মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী আরও বলেন, জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালের জেনারেটর চালু রাখতে বর্তমান সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম তাঁর ব্যক্তিগত সচিব আখতার নবীর মাধ্যমে ৬০ লিটার জ্বালানি তেল পাঠিয়েছেন। পরে স্থানীয়ভাবে সমস্যা সমাধানের আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
এদিকে আজ বিকেল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা চালু রাখতে জ্বালানি সংকটে থাকা আনোয়ারা হাসপাতালে ২০০ লিটার ডিজেল উপহার পাঠিয়েছেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ।
দুপুরে ২০০ লিটার ডিজেল নিয়ে একটি ভ্যানগাড়ি আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসে। পরে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের একান্ত সচিব রিদোয়ানুল করিম চৌধুরী সায়েম স্থানীয় সাংবাদিকদের ক্ষুদেবার্তা ও অডিওবার্তায় জানান, জাবেদের পক্ষে ওই ডিজেল পাঠানো হয়েছে।
ক্ষুদেবার্তায় রিদোয়ানুল করিম চৌধুরী সায়েম বলেন, ‘সম্প্রতি হাসপাতালে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও রোগীদের ভোগান্তির বিষয়টি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পরও কেউ এগিয়ে না আসায় সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ রোগীদের কথা চিন্তা করে জরুরি ভিত্তিতে জেনারেটর চালানোর জন্য বৃহস্পতিবার দুপুরে ২০০ লিটার জ্বালানি তেল পাঠান। এসব তেল দিয়ে ১০ থেকে ১২ দিন পর্যন্ত জেনারেটর চালানো সম্ভব হবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আরও জ্বালানি তেলের প্রয়োজন হলে আমরা তা সরবরাহ করব।’
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে ২০১৮ সালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ লাখ টাকায় ১০ কেভি ক্ষমতার একটি জেনারেটর সরবরাহ করে। পরে ২০২৪ সালে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ৩০ কেভি ক্ষমতার আরও একটি জেনারেটর দেন। তবে বর্তমানে জ্বালানি তেলের বরাদ্দ না থাকায় হাসপাতালের কোনো জেনারেটরই চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না।