চট্টগ্রাম নগরের হাজীপাড়া এলাকায় মধ্যবয়সী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, আজ শুক্রবার দুপুরে ওই ব্যক্তি ভুক্তভোগী শিশুসহ তার আরেক বোনকে (১০ বছর) ভুলিয়ে-ভালিয়ে একটি নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে দুই বোনের মধ্যে সাত বছরের শিশুটিকে তিনি ধর্ষণের চেষ্টা করেন।
এই ঘটনায় ওই ব্যক্তিকে আটক করে গণপিটুনি দেয় স্থানীয় জনতা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রায় দুই ঘণ্টা উত্তেজিত জনতার মধ্যে অবরুদ্ধ হয়ে থাকে। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
আজ শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে নগরের ডবলমুরিং থানাধীন হাজীপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যায় ওই শিশুর মা থানায় মামলা করেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম এহসান (৫৫)। তিনি শিশুটির পরিবারের প্রতিবেশী ও একটি ভবনের কেয়ারটেকার হিসেবে কর্মরত।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুপুরে এক শিশুর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে মারধর শুরু করেন তাঁরা। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে উদ্ধারের চেষ্টা করে। তবে উত্তেজিত জনতা পুলিশকে অবরুদ্ধে করে রাখে। পরে দীর্ঘ চেষ্টার পর পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
শিশুটির মায়ের অভিযোগ, দুপুরে তাঁর দুই মেয়ে খেলতে বের হয়। মেয়েরা বাড়িতে না ফেরায় তিনি একসময় তাদের খুঁজতে বের হন। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে টিনের বেড়া দেওয়া একটি নির্জন স্থানে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে তাঁর সাত বছরের মেয়ের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় ঘটনাস্থলে তাঁর ১০ বছরের আরেক শিশু উপস্থিত ছিল।
ওই শিশুটিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, শিশুটিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, ‘খবর পেয়ে দুপুরে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। কিন্তু ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়। উত্তেজিত জনতা আমাদের ঘিরে ফেলে। প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সেখান থেকে বের হতে সক্ষম হই।’
ওসি আরও বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে পরে থানায় নিয়ে আসা হয়। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুটির মা একটি মামলা করেছেন। মামলায় এহসানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: