কুমিল্লায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন কাউন্সিলর সোহেল। চলতি বছরের ২২ নভেম্বরের এ ঘটনায় তাঁর সহযোগী হরিপদ সাহাও গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।
হরিপদ সাহার শেষকৃত্যের সময়ও তাঁর মা শতবর্ষী রেনুবালা (১০৩) জানতেন না তাঁর ছেলে হরিপদ আর নেই। হরিপদ ছিলেন রেনু বালার দেখাশোনা করার একমাত্র অবলম্বন। আস্তে আস্তে রেনুবালা তাঁর ছেলে হরিপদের অভাব বুঝতে পারেন। পরে নিশ্চিত হলেন হরিপদ আর নেই। সেই পুত্র শোকে গতকাল মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে কুমিল্লা নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাহাপাড়া নিজ বাসস্থানে মারা যান হরিপদের মা রেনুবালা। নিহত হরিপদের বোন বুলু সাহা বিষয়টি জানান।
তিনি বলেন, গতকাল বুধবার দুপুর ১২টার দিকে নগরীর টিক্কারচর শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য হয়েছে। রেনুবালার ছয় মেয়ে ও এক ছেলে। হরিপদ ছিলেন সবার ছোট। পাঁচ মাস আগে হরিপদের স্ত্রী হৃদ্রোগে মারা যান। আর তাঁর মৃত্যুর শোকে তাঁর মা দুই সপ্তাহের মাথায় মারা যান। মায়ের সেবা-যত্ন নিঃসন্তান হরিপদই করতেন।
শ্রী শ্রী লোকনাথ সংঘের সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার সাহা বলেন, হরিপদ তার মা রেনু বালার সকল দেখাশোনা করতেন। সে মারা যাওয়ার পর তাঁর বোনেরা স্বামীর বাড়ি থেকে এসে দেখাশোনা করত। তাঁরা ভালোভাবে সময় দিতে পারত না।
নিহত হরিপদের বোন বুলু বলেন, কাউন্সিলর সোহেলকে যেদিন হত্যা করেছে সেই দিনই আমার ভাই হরিপদ নিহত হয়। আর আমার ভাইয়ের মৃত্যুর শোকেই আমার মাও মারা গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, কাউন্সিলর সোহেল হত্যাকাণ্ডে এ পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।