চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর মামলায় গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশি নাগরিককে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-২ মুহাম্মাদ আবুল মনছুরের আদালতে তাঁদের হাজির করা হয়। পরে দুইটি প্রিজন ভ্যানে করে তাঁদের চট্টগ্রাম কারাগারে পাঠানো হয়।
খুলশী থানায় করা মামলায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ২১, ২২, ২৪ ও ২৭ ধারা উল্লেখ করা হয়েছে।
আটক ৬৩ বিদেশি নাগরিকের মধ্যে লাওসের ৩৫ জন, পাকিস্তানের ২১ জন, চীনের ৫ জন, নেপালের একজন ও ভিয়েতনামের একজন নাগরিক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৪২ জন পুরুষ, ২০ জন নারী ও একজন শিশু।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। নগরীর একটি বাড়ি থেকে তাঁদের আটক করা হয় বলে জানা গেছে।
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম বলেন, এ ঘটনায় খুলশী থানায় মামলা হয়েছে। তদন্তে চট্টগ্রামের ওই বাড়ি থেকে পরিচালিত অনলাইন কর্মকাণ্ডের ধরন এবং এর সঙ্গে যুক্ত নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আরও তথ্য বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
পুলিশের তথ্যমতে, আটক বিদেশিদের মধ্যে লাওসের ৩৫ জন, পাকিস্তানের ২১ জন, চীনের ৫ জন, নেপালের একজন ও ভিয়েতনামের একজন নাগরিক রয়েছেন।
লাওসের নাগরিকদের মধ্যে তিয়েং (২৬), মানি ভ্যান (২৮), কেও (২৬), টুক (২৫), সিমোনেখাম (২৯), দাও (২৬), মিকো (২৩), আলি (২২), সাকোনে (৩৪), খোনে চাই (৩৬), বুন মি (২২), টয়ো (২৭), সুকসাখোনে (২০), সোলিসা (২০), মানিভান চাঁথাফোনে (২৫), ফুয়াং (২৫), মাই (২৪), বুনথাভি (৩০), কেওমানি (৩১), সিয়ামপাই (২৭), নি (২৭), নকসান্নিভাথ, বুয়ালিয়েনফাই (২৯), সুফাভোনে ভং সাই (২৬), থিলাকোনে ফুন সা ভাথ, ইয়েলেং থর (২৫), সোমচিট সাইয়াভং (২৩), ফাইমানি সিসোমবুথ (৩০), ফেতসামগুয়ান কেওতা (৩৬), সিলিফং ইনথাভং (২৫), থংজেউয়া চানথাভং (২৫), সাইকাথ বুয়াভান (৩৮), সাইকাথ সোমচাই (৫), সিভিলাই (৩৫), মিক্সাই ভংহালাথ (৩৬), ভিলায়ফোন ও লুয়াংলাথ (৩৪) রয়েছেন।
পাকিস্তানের নাগরিকদের মধ্যে আহসান সাবির (২৭), মোহাম্মদ রিজওয়ান (২৯), মোহাম্মদ তালহা (২৩), মোহাম্মদ উসমান (২২), মোহাম্মদ রমজান (২৫), মোহাম্মদ খান (২৯), নাভিদ খান (৩০), ফারহান উল্লাহ (২৫), রেহান আলী (২৫), ফাহাদ জামিল (৩২), খিজার ফারুক (৩০), জয়নাল-উল-আবেদিন (২৩), আলী আহমেদ (২৩), আমির জামান (৩০), আমজাদ (২৫), গোহার (২৬), হাম্মাদ (২৩), হুজাইফ খান (২৪), শাহজাদ খান (৩০), সোনিয়া (৩২) ও মারিয়াম (২৮) রয়েছেন।
চীনের পাঁচ নাগরিক হলেন লিউ গুয়াং জু (৩৮), ঝাং কিন (২৭), ইয়াং ইয়ং বিও (২৫), লিউ বিআং (৩৬) ও ইয়াং ঝং হাই (৩৫)। নেপালের সরোজ (২৬) এবং ভিয়েতনামের থুয়ং থি ডাং (৩১) রয়েছেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও তাঁদের কর্মকাণ্ড যাচাই করে অনলাইনভিত্তিক কার্যক্রমের প্রকৃতি এবং এর সঙ্গে দেশি-বিদেশি কোনো চক্র জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।