হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

চন্দনাইশে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে স্বামী আটক

প্রতিনিধি, (চন্দনাইশ) চট্টগ্রাম

আটক মো. সলিম। ছবি: আজকের পত্রিকা

স্ত্রীর বিয়ে বহির্ভূত একটি সম্পর্ক রয়েছে--- শুধু এই সন্দেহ থেকে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী সদর উল্লাপাড়ায় কোদালের আঘাতে তাঁকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী মো. সলিমের (২৪) বিরুদ্ধে। আজ বুধবার সকাল ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্ত্রী নূরহাবাকে দোহাজারী হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় সলিমকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সলিম বেশ কিছুদিন ধরে স্ত্রী নুরহাবাকে সন্দেহ করতেন। আজ সকালে তিনি প্রতিদিনের মতো মাটি কাটার কোদাল নিয়ে কাজে বের হন। পথে জানতে পারেন, বৃষ্টির কারণে কাজ হবে না। পরে বাসায় ফিরে এসে সলিম দেখেন, তাঁর স্ত্রী বাসায় তালা লাগিয়ে কোথাও বের হচ্ছেন। স্ত্রী কোথায় যাচ্ছেন, তা নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।

একপর্যায়ে স্ত্রীর প্রতি সন্দেহ আরও প্রবল হলে ক্ষিপ্ত হয়ে সলিম তাঁর হাতে থাকা কোদাল দিয়ে নুরহাবার মাথা, পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। অবস্থা গুরুতর হলে পরে সলিম তাঁর বাড়ির লোকজনের সহায়তায় নুরহাবাকে দোহাজারী হাসপাতালে নিয়ে যান।

দোহাজারী হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) টিপু মজুমদার বলেন, ‘হাসপাতালে আনার আগেই ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর মাথা, পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোদালের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।’

দোহাজারী তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল আলম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং সলিমকে আটক করে। নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

আনোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান জানান, আঘাত করার পর স্বামী ও বাড়ির লোকজন মিলে নুরহাবাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে হাসপাতাল থেকে পুলিশ হত্যার খবর জানতে পারে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় কৌশলে সলিমকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি কোদাল দিয়ে আঘাত করার কথা স্বীকার করেছেন।

নিহত নুরহাবা উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১-এর বাসিন্দা মৃত এরশাদ উল্লাহর মেয়ে। আটক সলিম একই ক্যাম্পের আবদুল আমিনের ছেলে। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পের বাইরে দোহাজারীতে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।