বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বছরব্যাপী স্কুল পর্যায়ের বইপড়া কর্মসূচিতে কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে চট্টগ্রামের ১০১টি স্কুলের ৫ হাজার ৮৯৫ শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। আজ শুক্রবার নগরের জিইসি কনভেনশন সেন্টারে গ্রামীণফোনের সহযোগিতায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র আয়োজিত দিনব্যাপী পুরস্কার বিতরণ উৎসবে শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৪ হাজার ৬১৬ জন ‘শুভেচ্ছা’, ১ হাজার ১৫০ জন ‘অভিনন্দন’ এবং ১২৯ জন ‘সেরা পাঠক’ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছে। পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে ছাত্রীদের সংখ্যা বেশি। মোট ৪ হাজার ১৪৩ জন ছাত্রী ও ১ হাজার ৭৫২ জন ছাত্র এ স্বীকৃতি পেয়েছে।
অনুষ্ঠানে ৯৪টি স্কুলের শিক্ষার্থীরা সরাসরি মঞ্চ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করে। বাকি সাতটি স্কুলের ৩০৮ শিক্ষার্থীর পুরস্কার আয়োজকদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া বলেন, জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি মূল্যবোধ ও মানবিকতা বিকাশের জন্য শিক্ষার্থীদের বই পড়তে হবে।
জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বই আমাদের অতীত ও ভবিষ্যতের সঙ্গে যুক্ত করে। মানবিকতাকে জাগিয়ে তুলতে আমাদের বই পড়তে হবে।’
জেলা প্রশাসক বলেন, ‘শুধু বই পড়লেই হবে না। বইকে সঠিকভাবে বুঝতে হবে এবং এর শিক্ষা ও মূল্যবোধকে ধারণ করতে হবে। ভবিষ্যতে দেশের জন্য কাজ করতে আমাদের যোগ্য ও মানবিক নাগরিক হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।’
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (প্রশাসন) ও দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন খান শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই। জ্ঞান, বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা ও মানবিক মূল্যবোধ সমৃদ্ধ করতে তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বই পড়ার আহ্বান জানান।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি, বাংলাদেশের প্রথম নারী চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস ও ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএবি) প্রথম নারী সভাপতি পারভীন মাহমুদ এফসিএ শিক্ষার্থীদের নিজেদের জানার, স্বপ্ন দেখার এবং সেই স্বপ্ন পূরণে নিরলসভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বই মানুষকে নিজেকে বোঝার ও মূল্যায়নের সুযোগ করে দেয়। তাই শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি, স্থপতি ও স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ আলী নকী বলেন, বই পড়ার মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানা যায়। তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বই পড়ার পাশাপাশি মোবাইল ফোনের অপব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
গ্রামীণফোনের চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান মোহাম্মদ মিনহাজ উল আলম বলেন, তরুণদের বুদ্ধিবৃত্তিক ও মানবিক বিকাশে ভূমিকা রাখতে প্রায় দুই দশক ধরে গ্রামীণফোন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বইপড়া কর্মসূচির সঙ্গে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘তরুণরাই ভবিষ্যৎ। একটি আলোকিত প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের এই উদ্যোগের সঙ্গে গত দুই দশক ধরে গ্রামীণফোন অংশীদার হিসেবে রয়েছে।’ এ সময় তিনি অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও সচেতনভাবে ইন্টারনেট ব্যবহারের বিষয়ে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
এ বছর প্রথমবারের মতো কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের জন্য ‘অনলাইন সেফটি ফান্ডামেন্টালস’ নামে একটি অনলাইন সচেতনতামূলক কোর্স চালু করা হয়েছে। শিশু ও অভিভাবকদের নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও সচেতন ইন্টারনেট ব্যবহারের বিষয়ে মৌলিক ধারণা দেওয়াই এ কোর্সের লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানস্থলে ‘অনলাইন সেফটি কর্নার’ও স্থাপন করা হয়। সেখানে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল আচরণ সম্পর্কে অভিভাবক ও শিক্ষকদের তথ্য দেওয়া হয়।
অর্পণাচরণ সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীদের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সংগঠক অ্যালেক্স আলীম। বছরব্যাপী কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও আয়োজকদের অবদানের জন্য তিনি ধন্যবাদ জানান।
গ্রামীণফোন দিনব্যাপী এ উৎসব এবং পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বিতরণের জন্য বই সরবরাহে পৃষ্ঠপোষকতা করেছে।