যে বা যারা নিজের পরিচয় গোপন করে অপকর্ম করে, দুর্নীতি করে তারা সবচেয়ে বড় ‘গুপ্ত’ বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। আজ শনিবার রাতে নগরের লালদীঘি ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এর আগে ১১ দলীয় ঐক্যের ডাকা ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চ চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আয়োজিত জনসভায় যোগ দেন জোটের নেতা-কর্মীরা।
জনসভায় বক্তব্যে জামায়াত আমির দাবি করে বলেন, সমাজে বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাস, রাহাজানি, হানাহানি-দলীয় আনুকূল্যে ও প্রশ্রয়ে সরকারি দলের লোকেরা এখন সন্ত্রাসে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। চুরিচামারিতে ঝাঁপিয়ে পড়েছে।
সম্প্রতি এক ঘটনার উল্লেখ করে বিরোধী দলের নেতা বলেন, ‘কিছুদিন আগে ঢাকা বিমানবন্দরে তিনজন ছিনতাইকারী মিলে এক প্রবাসীর স্বর্ণ ছিনতাই করা হয়েছে। তাঁরা যখন ছিনতাই করেছিল তখন বলেছে-আমরা আওয়ামী লীগের লোক, দিয়ে দাও-না হলে শেষ করে দেবো! কিন্তু যখন ধরা পড়ে, তখন দেখা যায়-সবগুলো বিএনপির লোক! এরা গুপ্ত! এরেই বলে গুপ্ত! যে নিজের পরিচয় গোপন করে অপকর্ম করে, দুর্নীতি করে সে হচ্ছে সবচাইতে বড় গুপ্ত!’
শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘আজকে আমরা যখন লংমার্চের ডাক দিলাম, তখন বিভিন্ন জায়গায় সর্বরোগ দেখা দিয়েছে। হিস্টাসিন খাওয়ানো লাগবে। আজকে বোধ হয় কিছু কিছু রিঅ্যাকশন আপনারা শুনতে পেয়েছেন। আমরা পরিষ্কার কথা বলি, আমাদের এই আন্দোলন কিন্তু ঈদের পরের আন্দোলন নয়। এই আন্দোলন জনগণের প্রাণের দাবি বাস্তবায়নের আন্দোলন। আর আন্দোলনে আমরা এমন জায়গাকে নির্বাচিত করেছি, যে জায়গাটি আন্দোলন সংগ্রাম, স্বাধীনতা সূতিকাগার। বীর চট্টলা থেকে এই আন্দোলনের শুরু হলো। আলহামদুলিল্লাহ!’
জামায়াত আমির বলেন, ‘আমাদের এই লংমার্চ হয়েছে সতর্ক করে দেওয়ার জন্য। কিন্তু বাকি লংমার্চগুলো আর এমন হবে না। আপনারা উল্টোপাল্টা করবেন, আর বিরোধী দল বসে বসে আঙুল চুষবে, তা হবে না। এখন পর্যন্ত আমাদের আঙুল সোজা আছে। প্রয়োজনে এটা বাঁকা হবে।’
সরকার বিরোধী দলকে রাজপথে নামতে বাধ্য করেছে দাবি করে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমাদের বাধ্য করেছেন রাজপথে আসতে। আমরা তো এই দাবি নিয়ে রাজপথে আসতে চাইনি। আমরা তো চেয়েছিলাম ফ্যাসিবাদে কবর রচনা হবে। আর সংসদের ভেতরেই ফয়সালা হবে। কিন্তু আপনারা গণভোটের গণরায়কে অস্বীকার করার মাধ্যমে বাংলাদেশের ৭০ ভাগ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন, গাদ্দারি করেছেন।’
অঙ্গীকার ব্যক্ত করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিরোধী দল জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করবে না, ইনশা আল্লাহ! আমরা গণভোটের গণরায় শতভাগ বাস্তবায়ন করে ছাড়ব, এর আগে আমরা বিরতি দেব না, থামব না। এই লড়াই চলবে, বাংলাদেশও বদলাবে।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘আমাদের আত্মবিশ্বাস রয়েছে, এই লড়াইয়ে জনগণ বিজয়ী হবে। ফ্যাসিবাদ হেরে যাবে। অপরাধীরা হেরে যাবে, চাঁদাবাজরা হেরে যাবে। দুর্নীতিবাজ, লুণ্ঠনকারীরা, আধিপত্যবাদীরা হেরে যাবে।’
সরকারি দলের উদ্দেশে জামায়াত ইসলামীর আমির বলেন, ‘অনির্বাচিত সরকার আমাদের জান্নাতে পাঠায় নাই, এটা ঠিক। কিন্তু অনির্বাচিত সরকারের সময় আপনারা যেমনটা ছিলেন, এখন কি সেই সুবিধাগুলো পাচ্ছেন? দেশ তো দেশের জায়গায় আছে। আপনারা এসে ক্ষমতায় বসলেন। কিন্তু এখন উল্টো হচ্ছে কেন? গ্যাস নাই, বিদ্যুৎ নাই, তেল নাই!’
শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘বিদ্যুৎ না থাকলেও বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল আসতেছে, গ্যাস না থাকলেও গ্যাস বিল আসতেছে। চতুর্দিকে হাহাকার!’
এ সময় মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়রের দায়িত্ব পালনের বিষয়েও সমালোচনা করেন শফিকুর রহমান।
এলডিপির চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমেদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ জনসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিন প্রমুখ।
এর আগে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ শনিবার সকালে রাজধানীর শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রামের অভিমুখে যাত্রা শুরু করে। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণহত্যার বিচারসহ ৬ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে এই লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়। পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জোটের নেতৃবৃন্দ নারায়ণগঞ্জের কাচপুর ব্রিজ, কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহিপাল, মিরসরাই ও সীতাকুণ্ডে পথসভা শেষে লংমার্চ চট্টগ্রাম নগরের লালদীঘি ময়দানে পৌঁছে।