হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

হালদা থেকে অবৈধভাবে বালু তুলে তীর রক্ষা বাঁধ

ইউসুফ আরফাত, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম)

হালদা নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে চলছে বালু উত্তোলন। গতকাল ফটিকছড়ির সুন্দরপুর ইউনিয়নের হাড়িঘাটা এলাকায়। ছবি: আজকের পত্রিকা

দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র হালদা নদীর ভাঙনরোধে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নে তীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। তবে এই বাঁধ নির্মাণে ব্যবহার করা হচ্ছে হালদা থেকেই অবৈধভাবে তোলা বালু। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক এক সদস্যের বিরুদ্ধে বালু তুলে প্রকল্পের ঠিকাদারের কাছে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি বাঁধের পাশেই হালদা থেকে অবৈধভাবে খননযন্ত্র (ড্রেজার) দিয়ে বালু তুলছেন।

জানা গেছে, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, হালদা নদীতে বালুমহাল ইজারা দেওয়া; বালু ও মাটি তোলা এবং চর কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে এসব নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ফটিকছড়ি উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীর জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

গতকাল রোববার সকালে সুন্দরপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হাড়িঘাটা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নদীতীর সংরক্ষণ ও বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ পুরোদমে চলছে। প্রকল্প এলাকার কাছে হালদা নদীতে ড্রেজার বসিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। পরে পাইপলাইনের মাধ্যমে সেই বালু সরাসরি নদীর তীরে ফেলা হয়। আর এই বালু উত্তোলন করছেন সুন্দরপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য শামশুল আলম; যিনি সিনা মেম্বার নামে পরিচিত।

বালু উত্তোলনের কথা স্বীকার করে শামশুল আলম বলেন, ‘বালু তোলার জায়গাটি আমার নিজের জায়গা। এখান থেকে বালু তোলার জন্য আবার কার কাছ থেকে অনুমতি নেব?’ এ কথা বলে তিনি মেজাজ হারান। এ সময় তিনি সাংবাদিককে উল্টো প্রশ্ন করেন, ‘এত বছর কোথায় ছিলেন?’

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়েক মাস ধরে দিনরাত অব্যাহতভাবে নদী থেকে বালু তোলা হলেও এ বিষয়ে প্রশাসনের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে হালদা নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রিলায়েন্স করপোরেশন ও আমিন অ্যান্ড কোম্পানি। প্রকল্পের আওতায় বাঁধ রক্ষার জন্য বেড়িবাঁধ নির্মাণ, সিসি ব্লক স্থাপন ও জিও ব্যাগ ফেলা হবে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রিলায়েন্স করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘কাজটি দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় কাজ শুরু করি। আমরা স্থানীয় বাসিন্দা সিনা মেম্বারের কাছ থেকে বালু কিনে নিচ্ছি। তিনি কোথা থেকে বালু দিচ্ছেন, সেটি আমার দেখার বিষয় নয়।’

চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সোহাগ তালুকদার বলেন, ‘ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত নই।’

বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও হালদা রিসার্চ ল্যাবরেটরির চেয়ারম্যান ড. মঞ্জুরুল কিবরিয়া বলেন, ‘এটি অত্যন্ত অন্যায় ও আত্মঘাতী একটি কাজ। আমি পাউবোকে আহ্বান জানাব, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে। পাশাপাশি প্রশাসনেরও এ বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো উচিত।’

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, ‘হালদা নদী থেকে বালু তোলার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

রাউজানে গুলিতে নিহত যুবদল নেতার জানাজায় হাজারো মানুষ, এখনো মামলা হয়নি

চট্টগ্রামে বাবার বাড়ির কবরস্থানে নারীর লাশ দাফনে বাধা

হালদা বিপন্ন করে নির্মাণ হচ্ছে তীররক্ষা বাঁধ

সিডিএর স্বার্থ রক্ষা করা আমার ইমানি দায়িত্ব: চেয়ারম্যান

ঘরে ঢুকে মা-মেয়ে হত্যা, অটোরিকশার চুক্তিপত্র বিরোধে এই নৃশংসতা!

চট্টগ্রামে মা-মেয়ের রক্তাক্ত লাশ, জখম নিয়ে পড়ে ছিল ৫ বছরের শিশু

ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তার ঘটনায় খুলশী থানার ওসি প্রত্যাহার

ক্রিকেটার নাঈমকে মারধর: এসআইসহ ২ পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত, বিভাগীয় মামলা প্রক্রিয়াধীন

রাউজানে এবার দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবদল নেতা নিহত, সড়ক অবরোধ

জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈমকে মারধর: এসআইসহ তিন পুলিশ প্রত্যাহার