চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে বহিষ্কৃত ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগাকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে তাঁর অনুসারীদের হামলার শিকার হয়েছে পুলিশ। অনুসারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ চলাকালে বাসার ভেতরের সুড়ঙ্গ পথ দিয়ে বগা পালিয়ে গেছেন।
আজ শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নগরীর খুলশীর ওয়্যারলেস মোড় ও পাহাড়তলী এলাকার এ ঘটনায় ওসিসহ পুলিশের ৫ সদস্য আহত হয়েছেন। এ ছাড়া পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।
আসামি ওয়াকিল হোসেন বগা চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে খুলশী, পাহাড়তলী ও আকবর শাহ এলাকায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত ১৭টি মামলা রয়েছে। চলতি বছরের ৮ জুন তিনি স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে বহিষ্কার হন।
পুলিশ জানায়, গত ৩০ আগস্ট পাহাড়তলী ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মিজানুর রহমানকে তুলে নিয়ে মারধর এবং কলেজের অধ্যক্ষকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ওয়াকিল হোসেন বগার বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ওয়াকিল হোসেন বগা দুই নম্বর আসামি। আজ ভোরে তাঁকে গ্রেপ্তার করতে খুলশীর ওয়্যারলেস মোড় এলাকায় অভিযানে যায় পুলিশ। সেখানে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে আসামির অনুসারীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়।
পরে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে কয়েকটি সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট ছোড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। তবে ওই সময়ের মধ্যে আসামি ওয়াকিল হোসেন বগা পালিয়ে যান। পরে পুলিশ তাঁর বাসায় গিয়ে একটি গোপন সুড়ঙ্গ পথ দেখতে পান। ওই পথ দিয়েই আসামি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন বলে ধারণা পুলিশের। এ ছাড়া পুলিশের ওই অভিযানের পর থানার ওসিকে মুঠোফোনে কল করে গালিগালাজ করেছেন বগা।
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রহিম আজকের পত্রিকাকে বলেন, বগাকে গ্রেপ্তার করতে গেলে তাঁর অনুসারীরা ওয়ারলেস মোড়ে সড়কে ব্যারিকেড তৈরি করে। সেখানে তাঁরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল, বোতল ও ককটেলসদৃশ বিস্ফোরক নিক্ষেপ করে। এতে ৫ কনস্টেবল আহত হয়েছেন। আমিও হাতে ব্যথা পেয়েছি। এ ছাড়া পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।
ওসি বলেন, হামলার পর অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেই। তবে আসামির বাসায় গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বগাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।