‘আর ঝিরে আই চামু (দেখব), আর ঝিরে আই শোকেসে সাজায় রাখমু’—চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে বারান্দায় বসে এভাবেই বিলাপ করছিলেন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মাইশা মুশফিরাতের মা সালমা আক্তার।
উপস্থিত স্বজনেরা সালমা আক্তারকে বুকে টেনে নিয়ে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও সদ্য সন্তানহারা মা বারবার ডুকরে কেঁদে উঠছিলেন, ‘আর ঝির (আমার মেয়ের) স্বপ্ন সিএ কইরব, তারপর চাকরি কইরব। লেখাপড়া করি প্রতিষ্ঠিত হই মা-বাবার পাশে দাঁড়াইব। কিন্তু আর ঝি আরগোরে (আমাদের) ছাড়ি আল্লাহর কাছে চলি গেছে।’
সালমা আক্তারের এই বাঁধভাঙা কান্না স্বজনসহ উপস্থিত সবার চোখকে অশ্রুসিক্ত করে তোলে।
মেয়ের মরদেহ নিতে হাসপাতালের বারান্দায় বসে ছিলেন বাবা প্রবাসী সাখাওয়াত হোসেনও। একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে বাক্রুদ্ধ তিনি।
মেয়ের হাসিমাখা মুখটা মনে করে নীরবে চোখের জল ফেলে বাবা সাখাওয়াত হোসেন জানালেন, মাইশা তাঁদের একমাত্র মেয়ে। গত শুক্রবার মেয়ের জন্মদিন ছিল। মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে আত্মীয়স্বজনসহ সবাইকে দাওয়াত করে অনুষ্ঠান করেছিলেন তিনি।
শোকাতুর বাবা বলেন, ‘জন্মদিনের অনুষ্ঠান করায় আমার মেয়ের সে কি আনন্দ! কিন্তু আমি কি জানতাম এটাই আমার মেয়ের শেষ জন্মদিন পালন করা। আমার একমাত্র মেয়েটার মৃত্যুতে আমার দুনিয়া শেষ হয়ে গেছে।’
এদিকে সড়ক দুর্ঘটনাপরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিহত বিশ্ববিদ্যালয়শিক্ষার্থী মাইশার মোবাইল ফোন ও ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিসপত্রের ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। মোবাইল ফোনের কভারে লেখা—‘ডেথ লাইক অটাম লিভস’—যার বাংলা অর্থ বোঝায়—শরতের ঝরা পাতার মতো শান্ত ও স্নিগ্ধ মৃত্যু। কথাগুলো নেটিজেনদের মনকে নাড়া দিয়েছে।