চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় একটি ফ্ল্যাট থেকে মনোয়ারা বেগম (৫৫) নামে এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের হোসেন বিল্ডিংয়ের চারতলার একটি ফ্ল্যাট থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মনোয়ারা বেগম উপজেলার চাতরী ইউনিয়নের পূর্ব ডুমুরিয়া এলাকার মৃত হোসেন কন্ট্রাক্টরের স্ত্রী।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মনোয়ারা বেগমের তিন ছেলে ও দুই মেয়ে। দুই মেয়ের বিয়ে হয়েছে অনেক আগে। তিন ছেলে প্রবাসে থাকেন। ফ্ল্যাটে মনোয়ারা বেগম একাই থাকতেন।
মেজো ছেলে মোহাম্মদ রিপন (২৪) গত সপ্তাহে বিদেশ থেকে ছুটিতে দেশে ফেরেন। গত শুক্রবার সকালে স্ত্রী ও মাকে নিয়ে তিনি শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে যান। বিকেলের দিকে মা একাই আনোয়ারার ওই ফ্ল্যাটে ফিরে আসেন। গতকাল সোমবার রাতে ছেলে বাড়িতে ফিরলে বার বার কলিং বেল বাজালেও দরজা খোলেননি মা। বাইরে থেকে অনেক ডাকাডাকি করেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাননি তিনি।
পরে আশপাশের লোকজনকে খবর দেন রিপন। প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে নাইলনের রশিতে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখেন মা মনোয়ারা বেগমকে।
মনোয়ারা বেগমকে উদ্ধার করে দ্রুত আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই ওই নারীর মৃত্যু হয়েছিল। পরে বিষয়টি থানা-পুলিশকে জানানো হয়।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, ‘পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। ওই নারী গতকাল সোমবার কোনো একসময় আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
পুলিশ জানায়, মনোয়ারা বেগম কিছুদিন ধরে মানসিক নানা সমস্যা ও বিষণ্নতায় ভুগছিলেন। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মানসিক যন্ত্রণার কারণে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়ে থাকতে পারেন।