চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে নাঈম নামের এক যুবককে তুলে নিয়ে নির্যাতনের পর হত্যার ঘটনায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন দুই হত্যা মামলায় অভিযুক্ত আসামি ও চিহ্নিত মাদক কারবারি মো. নুরুল ইসলাম ওরফে ইরান (৪০)। এ ঘটনায় তাঁর এক সহযোগীও গুরুতর আহত হয়েছেন। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা ইরানের আত্মগোপনে থাকা বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়।
গতকাল শনিবার গভীর রাতে উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ভাটেরখীল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চিহ্নিত মাদক কারবারি ইরান দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক কারবার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে শামীম ও নাঈম নামের দুই যুবককে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।
সর্বশেষ ২০ জুলাই রাতে ইয়াবা হারানোর অভিযোগে নাঈমকে তুলে নিয়ে যায় ইরানের সহযোগীরা। পরে তাঁর ওপর চালানো হয় ভয়াবহ নির্যাতন। নির্যাতনের একপর্যায়ে তার হাত-পায়ের নখ ও শরীরের চামড়া তুলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। গুরুতর আহত অবস্থায় নাঈমকে তাঁর বাড়ির পাশে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে স্বজনেরা উদ্ধার করে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল শনিবার ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়।
নাঈমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। গতকাল রাতে জানাজা শেষে বিক্ষুব্ধ শত শত মানুষ ইরান ও তাঁর সহযোগীদের খুঁজতে বের হন। প্রথমে ইরানকে না পেয়ে তাঁর এক সহযোগীকে গণপিটুনি দেওয়া হয়।
পরে গভীর রাতে পশ্চিম ভাটেরখীল এলাকায় ইরান যে ঘরে থেকে ইয়াবা কারবার করতো সেই ঘরে আত্মগোপনে রয়েছে—এমন খবর পেয়ে এলাকাবাসী ওই ঘর ঘিরে ফেলেন। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা তাঁকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে হত্যা করেন। পরে ওই বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম বলেন, ‘ইরান চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী এবং দুই হত্যা মামলার আসামি। সর্বশেষ সে ও তাঁর সহযোগীরা নাঈম নামে এক যুবকের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে তাঁকে হত্যা করে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর তাঁকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালালেও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।’
ওসি আরও বলেন, ‘গণপিটুনিতে নিহত হওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ইরানের মরদেহ উদ্ধার করেছে। তাঁর এক সহযোগীকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা জারি করেছে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নজরদারি চালাচ্ছেন।