চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে এক হাজতির উচ্চ আদালতের জামিননামা আদেশ পৌঁছানোর পরও নির্ধারিত সময়ে কার্যকর না করে আটকে রাখায় সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল হোসেনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই নোটিশ জারি করেন। আগামী দুই দিনের মধ্যে এ বিষয়ে লিখিত জবাব দিতে কারাগারের সিনিয়র জেল সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী ওই আসামি হলেন চট্টগ্রামের ওমর গণি এমইএস বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখা ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ ঘোষিত) সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াছ হোসেন (২৫)। তিনি নগরের চকবাজার থানার ঘাসিয়ারপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. ইদ্রিসের ছেলে।
২০২৪ ও ২০২৫ সালে চকবাজার থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের হওয়া পৃথক তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার করে ইলিয়াছ হোসেনকে গত ৬ জুন আদালতে সোপর্দ করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে বন্দী অবস্থায় রয়েছেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী এফ এম আনসার উল্লাহ বলেন, গত ৭ সেপ্টেম্বর নগরের কোতোয়ালি থানার একটি মামলায় হাইকোর্ট বিভাগের ফৌজদারি মিস মামলা মূলে এক বছরের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান ইলিয়াছ হোসেন। যথানিয়মে নিম্ন আদালতে দাখিলের পর গতকাল বুধবার দুপুর ১২টায় জামিননামা গ্রহণ করে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারা কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় পার হলেও আসামি মুক্তি পাননি।
আইনজীবী আরও বলেন, জামিন পাওয়া ইলিয়াছ হোসেনের বিরুদ্ধে কোনো পেন্ডিং পি-ডব্লিউ (প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট) অথবা আগের কোনো মামলার সি-ডব্লিউ (কাস্টডি ওয়ারেন্ট) আদেশ না থাকা সত্ত্বেও সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে আদালতের আদেশ অমান্য করে তাঁকে আটকে রাখে কারা কর্তৃপক্ষ। এটা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।
আদালতের নোটিশ পাওয়ার কথা স্বীকার করে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল হোসেন বলেন, গতকাল বুধবার দুই শতাধিক বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। একজন হাজতিকে মুক্তি দিতে আমাদের কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। হাজতি ইলিয়াছ হোসেনের বিষয়ে নিশ্চয় কোনো একটা সমস্যা হয়েছে। আমরা আদালতকে বিষয়টির জবাব দেব। আর নাহয় ক্ষমা চাইব।