চট্টগ্রামের চন্দনাইশে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী রুনা আক্তারকে (৩০) মারধর করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী মো. জাকির হোসেন ওরফে নুরুল হকের (৩৭) বিরুদ্ধে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বরমা ইউনিয়নের চরবরমা গুচ্ছগ্রামের ২৭ নম্বর ঘরে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জাকিরকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে জাকির স্ত্রীকে মারধরের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। ঘটনার রাতে পারিবারিক বিষয় নিয়ে রুনা ও জাকিরের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জাকির ক্ষিপ্ত হয়ে রুনাকে মারধর করেন বলে পুলিশকে জানান।
মারধরে গুরুতর আহত হয়ে রুনা অচেতন হয়ে মাটিতে পড়ে যান। রুনার জ্ঞান না ফেরায় জাকির তাঁকে খাটে তুলে শুইয়ে দেন এবং শ্বশুর জামাল উদ্দিনকে খবর দেন।
খবর পেয়ে স্থানীয় পল্লিচিকিৎসক বোরহান উদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে রুনাকে পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত রুনা বরমা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম বাইনজুরি এলাকার জামাল উদ্দিনের মেয়ে। তিনি ১১ বছর বয়সী এক সন্তানের মা। প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর প্রায় দুই বছর আগে জাকিরের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।
অভিযুক্ত জাকির একই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কেশুয়া নয়াপাড়া এলাকার মৃত আবুল হোসেনের ছেলে। তিনি পেশায় ইজিবাইকচালক।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মোহাম্মদ হারুনুর রশীদ বিষয়টি পুলিশকে জানালে চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম দিদারুল ইসলাম সিকদারের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ পরে জাকিরকে গ্রেপ্তার করে এবং রুনার মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
দিদারুল ইসলাম সিকদার বলেন, ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহতের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে জাকির হোসেনকে একমাত্র আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন।
ওসি আরও বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।